ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৪ টাকা কমলো

ফসলের উত্পাদন খরচ কমানো ও টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরিয়া সারের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি কেজি সারে ৪ টাকা কমিয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এ তথ্য জানান। এর আগে গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ ীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ইউরিয়া সারের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষিতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে আরও এক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হলেও কৃষকরা যদি উপকৃত হয়, অবশ্যই ইউরিয়া সারের দাম কমানো হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বর্তমান সরকারকে কৃষিবান্ধব সরকার উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তিনবার নন ইউরিয়া সারের দাম কমানো হয়েছে। এ সময়ে ইউরিয়া সারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি থাকার কারণে দাম কমানো সম্ভব হয়নি। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সারের দাম স্থিতিশীল থাকায় ২০ টাকা থেকে কমিয়ে প্রতি কেজি ১৬ টাকা করা হয়েছে। গতকাল থেকেই এই মূল্য কার্যকর হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সারের মূল্য কমানো হলো কিনা?—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারও তো সারের দাম কমাতে পারতো। তত্ত্বাধায়ক সরকারও কমায়নি। উল্টো বিএনপির সময় সারের জন্য ১৮ জন কৃষককে প্রাণ দিতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় নন-ইউরিয়া সারের মূল্য বেশি থাকায় তিন দফায় নন-ইউরিয়া সারের মূল্য কমানো হয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে নন-ইউরিয়া টিএসপি প্রতি কেজি ৮০ থেকে কমিয়ে ২২ টাকা, এমওপির ৭০ থেকে কমিয়ে ১৫ টাকা এবং ডিএপির মূল্য ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে ২৭ টাকা করা হয়। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় ইউরিয়ার মূল্য ১২ টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়। এখন কেজিতে ৪ টাকা কমানো হলো। সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষি সচিব এস এম নাজমুল ইসলাম জানান, দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা সাড়ে ২৪ লাখ টন। এ চাহিদার বিপরীতে আমদানি করতে হয় ১৭ লাখ টন। সারের দাম কমানোয় কৃষিখাতে ভর্তুকি ৬৮০ কোটি টাকা বাড়বে বলে তিনি জানান।