আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রশ্নে ১৩ রাজনৈতিক দলকে সতর্ক করবে ইসি
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৭
২০১২ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে জমা দিতে না পারায় তেরটি রাজনৈতিক দলকে সতর্ক করে চিঠি দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ে হিসাব জমা না দেয়ায় তিনটিসহ মোট চারটি রাজনৈতিক দলের হিসাব গ্রহণ করেনি কমিশন। দলগুলো হলোঃ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি ও খেলাফত আন্দোলন। রাজনৈতিক দলের জমা দেয়া হিসাব পর্যালোচনা করে রবিবার কমিশনের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো ঃ শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে হিসাব দাখিলের ক্ষেত্রে আরো সচেতন করতে এবার সময় বাড়ানো হচ্ছে না। যেসব দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল তাদেরকে চিঠি দিয়ে সময় না বাড়ানোর কথা জানানো হবে।’ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব কমিশনে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। এর অংশ হিসাবে গত ১১ জুন রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে তাগাদা পত্র দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৬টি দল তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করে কমিশনে। সময় বৃদ্ধি চেয়ে ৯টি দল আবেদন করেছিল। দলগুলো ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত হিসাব জমা দেয়ার জন্য সময় চেয়েছিল। তবে কমিশন দলগুলোর সময়বৃদ্ধির আবেদন নাকচ করে সতর্ক চিঠি দিচ্ছে। বাকী চারটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩১ জুলাই বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি হিসাব দাখিল করলেও তা রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দ্বারা অডিট না হওয়ায় গৃহীত হয়নি। এছাড়াও ১ আগষ্ট হিসাব দাখিলকৃত খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশ, ২০ আগষ্ট বাংলাদেশের ওর্য়াকার্স পার্টি এবং ২২ আগষ্ট জাতীয় সমাজতান্ত্রিক পার্টির দাখিলকৃত হিসাব গ্রহণ করা হয়নি। কমিশন বলছে, প্রতিবছর সময় বাড়ানোর কারণে রাজনৈতিক দলগুলো বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিচ্ছে না। ফলে এখন থেকে আর কোন দলের সময়বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণ করা হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশনের সংশ্লিষ্ঠ শাখা থেকে আজকালের মধ্যে তেরটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হচ্ছে। কমিশন থেকে পাঠানো ৯টি দলের চিঠিতে বলা হচ্ছে আইন মেনে সঠিক সময়ের মধ্যে প্রত্যেক দলকে হিসাব জমা দিতে হবে। কোন দলের জন্য সময়বৃদ্ধি করা হবে না। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারার বলা হয়েছে, কোন নিবন্ধিত দল পরপর তিন বছর আয়-ব্যয়ের তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।
২০০৮ সাল থেকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং প্রতি বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিশনে জমা দেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়। এক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দ্বারা দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। এ হিসাবে সদস্য সংগ্রহসহ কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে। ২০১১ সালে কমিশনের নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ৩১টি দল তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। এর আগে ২০১০ সালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২১টি রাজনৈতিক দল তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে পেরেছিল।