লজ্জায় ডুবলো বাংলাদেশ

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলে হারটা তবু দুই দলের সামর্থ্যের পার্থক্যের কারণে মেনে নেয়ার মতো ছিল। কিন্তু গতকাল বাংলাদেশ হকি দল অসহনীয় এক লজ্জায় ডুবল এশিয়া কাপ হকিতে। কোরিয়ার কাছে হারের লজ্জা না কাটাতেই ওমানের কাছেও বাংলাদেশ হারলো তারা। গতকাল বাংলাদেশ ২-৪ গোলে ওমানের কাছে হেরে মাথা নিচু করে গ্রুপপর্ব পার না করার ব্যাপারটা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল হজম করার পর বাংলাদেশের ব্যবধান কমেছে রোমান সরকারের গোলে ১-৩। ওমান আবার গোল করে ৪-১ ব্যবধান বাড়ালেও পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে আরেকবার ব্যবধান কমান অধিনায়ক মামুনুর রহামন চয়ন ২-৪। এশিয়া কাপ হকিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কোরিয়ার বিরুদ্ধে জিততে পারবে না বাংলাদেশ—এটা এদেশের হকি অনুরাগীরা জানেন, বোঝেন। কারণ হকিতে কোরিয়া এবং বাংলাদেশের অবস্থান দুই দিগন্তে। এমনকি গ্রুপের শেষ ম্যাচে আগামীকাল ভারতের বিরুদ্ধেও জেতার স্বপ্ন দেখার কথা নয় বাংলাদেশের। কিন্তু ওমানকে হারানোটা বাংলাদেশের লক্ষ্যের মধ্যেই ছিল। এই ওমানের বিরুদ্ধে জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক হকিতেও ওমান খুব বেশি শক্তিশালী দল নয়। পরিকল্পনা ছিল গ্রুপ ম্যাচে ওমানকে হারিয়ে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলদেশ হয় তো চাইনিজ তাইপেকে পাবে। তাইপেকে হারানোটাও সহজ হবে। তাতে বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে এশিয়া কাপ হকিতে ষষ্ঠ স্থান পাওয়া। এই লক্ষ্য পূরণ হলে বাংলাদেশকে আগামী এশিয়া কাপের জন্য বাছাই খেলতে হবে না। সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। কিন্তু এসব সমীকরণ প্রায় ডুবিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা নিজেরাই। এখন ওমানের কাছে হারের ফলে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জাপানকে প্রতিপক্ষ হিসাবে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তাই হয় সেখানে আরও বাংলাদেশের ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ষষ্ঠ হওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। কাল মালয়েশিয়ার ইপো শহরে ওমানের কাছে হেরে বাংলাদেশের স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ার পথটা তৈরি হয়ে গেল। খেলা শেষে বেগুনি রংয়ের টার্ফের উপর দিয়ে মাথা নিচু করে হেঁটে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ পাকিস্তানি নাভিদ আলম এবং জাহিদ, বিপ্লব, চয়ন, মিমো, কৃষ্ণা, রানা, জিমি, নিলয়, কৌশিকরা। টেলিভিশনের পর্দায় খেলা দেখে হকির কর্মকর্তারাও বুঝতে পারছেন না এমন বিপর্যয় ঘটলো কিভাবে।