আলোকস্বল্পতার নিয়ম নিয়েই ক্ষুব্ধ ইংল্যান্ড

আলোকস্বল্পতার জন্য বহুকাঙ্ক্ষিত জয় থেকে মাত্র ২১ রান দূরে থেমে যেতে হওয়ায় এবার নিয়মেরই পরিবর্তন চাইলেন ইংল্যান্ড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ফ্লাওয়ারের দাবির কারণটাও সহজেই অনুমেয়। আলোকস্বল্পতার কারণে নাটকীয় পরিণতির দিকে এগোতে থাকা ওভাল টেস্টের শেষ দিনটি কোন ফলাফল না দেয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবারের মতো ৪-০ তে হারানোর স্বপ্ন পূরণ হলো না ইংলিশদের। অবশ্য ৩-০ তে এগিয়ে থাকায় ইংল্যান্ড এ ড্র সত্ত্বেও অ্যাশেজ ধরে রাখল। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ৪৯২ রানের জবাবে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাগতিকরা গত রবিবার তাদের প্রথম ইনিংস শেষ করে ৩৭৭ রানে। ম্যাচের ফলাফল তখন নিশ্চিত ড্র হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন সবাই। তবে মাত্র ১১১ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন অজি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। ৪৪ ওভারে ২২৭ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় ব্যাটিংয়ে নামা অ্যালিস্টার কুকের দলও সাদরে গ্রহণ করে ক্লার্কের চ্যালেঞ্জ। তিন নম্বরে নামা কেভিন পিটারসেনের দুর্দান্ত ইনিংসটিই বলতে গেলে ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়। পিটারসেন ৫৫ বলে ৬২ রান করে ফিরে গেলেও ট্রট, কুকদের ব্যাটে চড়ে জয়ের দিকেই এগোতে থাকে ইংল্যান্ড। অজিদের ৪-০ তে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে যখন শেষ চার ওভারে তাদের দরকার ২১ রান, তখনই লাইট মিটার হাতে নেন ফিল্ড আম্পায়ার আলিম দার। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় শেষ পর্যন্ত দিনের খেলা শেষেরও ঘোষণা দেন তিনি। ফলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় প্রায় ২৫ হাজার দর্শককে। ম্যাচ শেষে হতাশা লুকানোর কোন চেষ্টাই করলেন না ফ্লাওয়ার, ‘আমার মনে হয় প্রতিযোগিতাটা শুধু ব্যাট আর বলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাটাই যৌক্তিক। সুতরাং আমার মনে হয়, আইসিসি এ নিয়মের সংশোধন করতে পারে এবং তাদের কর্মকর্তাদের সাথে আমরা কয়েক বছর ধরেই এটি নিয়ে আলোচনা করছি। আমরা বলেছি সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় ম্যাচের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।’ তবে আইসিসি সেই কথায় কোন কর্ণপাত করছে না জানিয়ে এ জিম্বাবুইয়ান আরো বলেন, ‘তারা বলছে এটি করা যায় কিনা সে বিষয়ে তারা ভেবে দেখবে। তবে তাদের নিয়ম হচ্ছে আপনি যদি ঐ মুহূর্তে স্পিনারদের দিয়ে বোলিং করান তাহলে অন্ধকার না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত খেলা যাবে। কিন্তু এটি কোন নিয়ম হতে পারে না। সুতরাং এ নিয়ম অবশ্যই পাল্টানো দরকার। এতে ক্রিকেটেরই মঙ্গল হবে।’