অঘটনের স্বীকার ম্যানচেস্টার সিটি
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৫
সাবেক চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে অঘটনের জন্ম দিল নতুন দল কার্ডিফ সিটি। গত রবিবার রাতে নিজেদের মাঠে কার্ডিফ সিটি ৩-২ গোলে হারিয়েছে সিটিকে। দিনের অন্য ম্যাচে টটেনহ্যামে হটস্পার ১-০ গোলে হারায় সোয়ানসি সিটিকে।
গেল বছর ফুটবল লিগ চাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয় কার্ডিফ সিটি। ফলে ২০১৩-১৪ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে খেলার ছাড়পত্র পায় তারা। আর এবারই প্রথম প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ পেল কার্ডিফ। লিগে সূচনাটা বাজেভাবে হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ফুটবল ভক্তদের চমকে দিয়েছে তারা। ইংলিশ লিগের বড় ক্লাব ম্যান সিটিকে লজ্জার হার উপহার দিল কার্ডিফ।
ওয়েস্টহাম ইউনাইটেডের কাছে ২-০ গোলে হেরে এবারের মৌসুম শুরু করেছিল কার্ডিফ। ঐ ম্যাচটি প্রতিপক্ষের মাঠে হওয়ায় নিজেদের হয়তো পুরোপুরিভাবে মেলে ধরতে পারেনি তারা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের মাঠে ম্যান সিটিকে দারুণভাবে সামাল দেয় কার্ডিফ।
ম্যাচের শুরু থেকেই ম্যান সিটির সাথে পাল্লা দিয়ে খেলতে থাকে কার্ডিফ। ফলে ম্যান সিটির বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত আক্রমণও দক্ষতার সাথে ভেস্তে দেয় তারা। শুধু ম্যান সিটির আক্রমণ দেখেই ক্ষান্ত হয়নি কার্ডিফ, নিজেরাও করেছে আক্রমণ। এর মধ্যে উল্লে¬খযোগ্য ছিল প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে করা আক্রমণটি। মিডফিল্ডার আরোন গুনারসনের বাড়িয়ে দেয়া বল পেয়ে ম্যান সিটির বিপদ সীমানায় প্রবেশ করেন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ফ্রাইজার ক্যাম্পেবেল। এরপর গোলের উদ্দেশ্যে দারুণ এক শটও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার নেয়া শটটি বার ঘেঁষে গেলে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় কার্ডিফ। ফলে প্রথমার্ধ গোলের আনন্দ ছাড়া শেষ হয়।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর ভুল করেনি ম্যান সিটি ও কার্ডিফ। এ অর্ধে পাঁচটি গোল করে দুই দল। এর মধ্যে গোলের আনন্দ তিনবার উদযাপন করেছে কার্ডিফই। ফলে কপাল পুড়ে ম্যান সিটির। কিন্তু এই অর্ধে গোলের হিসাবটা প্রথম খুলে সফরকারীরাই।
৫২ মিনিটে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সার্জিয়ো আগুয়েরোর পাস থেকে গোল করে প্রথমবারের মতো ম্যান সিটিকে এগিয়ে দেন বসনিয়া হার্জেগভিনার স্ট্রাইকার এডিন ডেকো। তবে বেশিক্ষণ ম্যাচে লিড ধরে রাখতে পারেনি ম্যান সিটি। প্রথম গোলের ৮ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা আনে কার্ডিফ। দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান মিডফিল্ডার আরোন গুনারসন।
ম্যাচে সমতা আনার পর যেন আরও বেশি তেতে উঠে কার্ডিফ। আক্রমণের পর আক্রমণ করে ম্যান সিটিকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা। ফলে ৭৯ ও ৮৭ মিনিটে দুইটি গোল পেয়ে যায় তারা। দুইটি গোলই করেন স্ট্রাইকার ফ্রাইজার ক্যাম্পেবেল। ফলে ম্যাচে ৩-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে কার্ডিফ। তবে ম্যাচে ফেরার জন্য পিছিয়ে যাবার পরবর্তী সময়টা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে ম্যান সিটি। কিন্তু এ সময় মাত্র একটি গোল আদায় করতে সমর্থ হয় তারা। ইনজুরি সময়ে স্ট্রাইকার আলভারো নিগ্রিডো সানচেজের গোলে ব্যবধান ৩-২-এ নামিয়ে আনে ম্যান সিটি। শেষ পর্যন্ত ঐ ব্যবধান ধরে রেখে স্মরণীয় জয় নিয়েই মাঠে ছাড়ে কার্ডিফ সিটি।
বড় ক্লাবের বিপক্ষে দলের এমন জয়ে দারুণ খুশি কার্ডিফ কোচ মালকি ম্যাকে, ‘আমি সত্যিই অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত। আমাদের অনেকদিনের একটি স্বপ্ন ছিল বড় ক্লাবকে হারাবো। অবশেষে সেই স্বপ্ন আজ ধরা দিল। আর জয়টি নিজেদের মাঠে আসায় ভক্তরা খুবই আনন্দ পেয়েছে। তবে সত্যি ছেলেরা খুব ভালো খেলেছে।’ এ ম্যাচ শেষে ২ খেলায় ৩ পয়েন্ট সংগ্রহে থাকলো ম্যান সিটি ও কার্ডিফ সিটির।
এছাড়া দিনের অন্য ম্যাচে টটেনহ্যামে হটস্পার ১-০ গোলে হারায় সোয়ানসি সিটিকে। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন স্ট্রাইকার রবার্তো সোলাদাদো। এই জয়ে ২ খেলা শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকলো টটেনহ্যাম। আর ২ খেলা শেষে এখনো এ্যাকাউন্টের হিসাব খুলতে পারেনি সোয়ানসি সিটি।—বাসস