শিক্ষাটাই বড় করে দেখছে ‘এ’ দল

ঢাকা পৌঁছেই গতকাল দুপুরে চুল ছাঁটাতে ছুটলেন জাতীয় দলের ওপেনার এনামুল হক বিজয়। এটাকে চাইলে দীর্ঘ ইংল্যান্ড সফরের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছেঁটে ফেলে দেয়ার প্রতীক হিসেবে দেখতে পারেন কেউ। কিন্তু বিজয় বলছেন, সফরের অভিজ্ঞতা আসলে ফেলে দেয়ার মতো নয়। এই সফর থেকে তারা একটার পর একটা হার নিয়ে ফিরেছেন ঠিকই, কিন্তু অমূল্য সব অভিজ্ঞতাই নাকি ঝুলিতে নিয়ে এসেছেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে সবচে’ বড় শিক্ষণীয় সফর ছিল এটা। আসলে আমাদের প্রতিটা খেলোয়াড়ই অন্তত একটা শিক্ষা নিয়ে ফিরেছে—ভালো করতে হলে কী করতে হবে।’ হ্যাঁ, কাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকে ইংল্যান্ড ফেরত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের খেলোয়াড়রা এই ‘শিক্ষা পাওয়া’র ওপরই সবচে’ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আট ম্যাচের লম্বা সফর; তাতে প্রথম সাতটিই হার। এমন সফর থেকে দেশে ফেরাটা নিঃসন্দেহে দারুণ কষ্টের এক অভিজ্ঞতা। কাল সকালে সেই অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হলেন ‘এ’ দলের নামে ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া জাতীয় দলের তারকারা। দলের অধিনায়ক জহুরুল ইসলাম অমি বলছিলেন, তারা ইংল্যান্ডে বসেই আসলে এই লজ্জাটা পাচ্ছিলেন। দেশে ফিরে কীভাবে এই হারের ব্যাখ্যা দেবেন, এটা তাদের চিন্তা জুড়ে ছিল। তবে নাঈম ইসলামের দুরন্ত এক সেঞ্চুরিতে পাওয়া শেষ ম্যাচের জয়টা আসলে তাদের সেই নিরঙ্কুশ লজ্জা থেকে একটু বাঁচিয়েছে বলেই মনে করছেন অমি, ‘সফরের শেষদিকে আসলে আমরা নিজেরাই লজ্জা পাচ্ছিলাম। ভাবছিলাম এভাবে দেশে যাব কিভাবে! শেষ ম্যাচের জয়টা সেদিক থেকে একটু স্বস্তি দিয়েছে। আর জিতেছিও দারুণ ভাবে। লায়ন্সের সঙ্গে ৩২০ রান চেজ করে জেতা সহজ কোনো কথা নয়। টন্টনে আমরা দুটো ম্যাচ খেলেছি, দ্বিতীয় ম্যাচটি কিন্তু ভালো করলাম।’ বাকি ম্যাচগুলোতে হারের পেছনে দলের কেউই কোনো অজুহাত দিতে চাইছেন না। তারপরও অমি একটু ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করলেন, ‘লায়ন্সের সঙ্গে ম্যাচগুলো নিয়ে বলব, ওরা আসলে খুব শক্তিশালী দল ছিল। রাইট-ব্যালান্স-কারবেরিরা ওদের ঘরোয়া ক্রিকেটেও এমন দুর্দান্ত ফর্মে আছে যে, আমাদের বোলারদের পাত্তাই দেয়নি। আমি হারের জন্য কোনো অজুহাত দেব না। তবে একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে, আমরা ঠিক সেটেলড হতে পারিনি কোথাও। আট ম্যাচ খেলেছি আমরা সাতটি মাঠে। একেকটি মাঠ একেকরকম। তারপরও আমাদের মানিয়ে নেয়া উচিত ছিল।’ তবে এসব হারের অভিজ্ঞতা নয়; শেষ পর্যন্ত অমিরা এই সফর থেকে আসলে নানামুখী শিক্ষার অভিজ্ঞতাটাই মনে রাখতে চান, ‘দলগত ভাবে সফরটা অবশ্যই ভালো হয়নি। সবাই বলবে আট ম্যাচে সাত হার। কিন্তু বিশ্বাস করেন, আমরা সবাই অনেক শিখেছি। সফরের শেষ দিকে এসে সবার সঙ্গে কথা বললেই বোঝা গেছে সেটা। এসব হয়ত খালি চোখে সেভাবে চোখে পড়বে না, কিন্তু সবাই শিখেছে।’ শেখার ব্যাপারটা আরেকটু ব্যাখ্যা করে বললেন সফরে সেঞ্চুরি করা এনামুল হক বিজয়, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি, এতো বেশি শেখার সুযোগ আমি জীবনেও পাইনি। এই কন্ডিশনে ভালো করতে গেলে কী করতে হবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডমিনেট করতে হলে কী উন্নতি করতে হবে; এখন আমরা বুঝতে পারছি। আমরা প্রতিদিন নিজেদের মধ্যে শেয়ার করেছি; কী আমাদের দুর্বলতা, কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন কী হচ্ছে; এই ব্যাপারগুলো আসলে অসাধারণ উপকারে দেবে।’ তা হলে অবশ্য এই সাত ম্যাচ হারের দুঃখ বাংলাদেশও ভুলে যাবে।