অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা প্রদান
নারীর অগ্রযাত্রাকে রুখতে সক্রিয় মৌলবাদকে প্রতিহত করতে হবে
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৮
মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ অবধি দেশের সকল উন্নয়নে নারীর অবদান পুরুষের চেয়ে বেশি বৈ কম নয়। যুদ্ধের সময় পুরুষ যুদ্ধ করেছে দেশ বাঁচাতে, প্রাণ বাঁচাতে আর নারী দেশে ও প্রাণ বাঁচানোর সাথে সাথে সম্মান বাঁচাতেও যুদ্ধ করেছে। তাই নারীর যুদ্ধ পুরুষের চেয়ে একধাপ বেশি, কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি কোন নারীই দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে রাজাকার হয়নি। নারীর অগ্রযাত্রাকে রুখতে সক্রিয় মৌলবাদকে যেকোন মূল্যে প্রতিহত করতে হবে। গতকাল জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এভাবেই দেশমাতৃকার জন্য নারীর অবদান স্মরণ করেন। ‘অনন্যা শীর্ষ দশ ২০১৩’ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন। অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন।
১৯৯৩ সাল থেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য দশজন সফল ও আলোচিত নারীকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ বছর তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষকতায় অধ্যাপক মাহফুজা খানম, সফটওয়ার উদ্যোক্তা লুনা দোহা, সমাজিক সচেতনতায় নুরুন্নাহার বেগম, গবেষণা ও উন্নয়নে ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, কণ্ঠশিল্পী চন্দনা মজুমদার, বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী, পরিবেশ রক্ষায় খোরশেদা বেগম, জননিরাপত্তায় মিলি বিশ্বাস, সাংবাদিকতায় ফারজানা রূপা, কৃষি উন্নয়নে ড. কাশফিয়া আহমেদকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন অনন্যা শীর্ষ দশের নেপথ্য বর্ণনা করে বলেন, বছরের আলোচিত নারীকে সম্মান দেয়ার লক্ষ্যে পাক্ষিক অনন্যা এই সম্মাননা প্রবর্তন করতে চেয়েছিল। পরে নারীর কর্মক্ষেত্র বিবেচনা করে শুধু একজন নয় দশটি ভিন্ন পেশার নারীকে মনোনীত করে একে আরো বিস্তৃত করে করা হয় ‘অনন্যা শীর্ষ দশ’।
অনন্যার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সম্মাননাপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, আমাদের অনেক দায়িত্ব আমরা যেমন কাজ করবো তেমন ঘরকেও ঠিক রাখবো, সমাজে যেন ঐশীর আবির্ভাব না ঘটে। লুনা দোহা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে নারী নির্যাতন রুখতে হবে। ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, তাসমিমা হোসেন নারী হিসেবে অনন্যা প্রদান করে তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন। আমি আমার কাজের মাধ্যমে মায়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলছি। এসিড সন্ত্রাসের শিকার নুরুন্নাহার বলেন, অনন্যা আমার জীবনের প্রথম পুরস্কার। আমার জীবনে বিপর্যয় নেমে এলেও আমি থেমে যাইনি। আমার সাহস আছে আপনারা সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠানে সকল বক্তা নারীর এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাবা-মা ও নারী আন্দোলনের অগ্রপথিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অনুষ্ঠান শেষ হয় কণ্ঠশিল্পী চন্দনা মজুমদার গানের মধ্যদিয়ে ।