পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে পারলে দুদক হবে টাইগার

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে কোকোর পাচারকৃত টাকা যেভাবে বিদেশ থেকে ফেরত আনা হয়েছে, একইভাবে অন্য প্রভাবশালীদের টাকা ফেরত আনতে পারলে দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) হবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তবে এক্ষেত্রে দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ফেরত আনা টাকা ব্যবহার করে দুদকের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুদক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, দুদক কমিশনার মো. শাহবুদ্দিন, মো. নাসিরউদ্দিন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ আরো অনেকে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে আইন সংশোধনের পর দুদক খুব দ্রুত গতিতে কাজ করছিল। এভাবে দ্রুত গতিতে কাজ করায় দুদকের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। তবে বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা দুদকের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি প্রমাণ। বর্তমান সরকারের সময়ে দুর্নীতি নির্মূল না হলেও দুর্নীতির প্রকোপ অনেক কমেছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অর্থ পাচার হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তবে দুদক ইতিমধ্যে একজনের অর্থ ফেরত এনেছে। এভাবে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে পারলে দুদকের সক্ষমতা আরো বাড়বে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানি লন্ডারিংকে বাংলাদেশের একটি কঠিন রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির পথে এটি বড় বাধা। আর এটি নিয়ন্ত্রণও খুব কঠিন। তবে বর্তমান সরকার মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে ইতিমধ্যে একজনের পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তবে তথ্য-প্রমাণের দুর্বলতার কারণে অনেক মামলা এখনো আটকে আছে। ড. আতিউর রহমান বলেন, সম্পদ পুনরুদ্ধার একটি জটিল প্রক্রিয়া। দেশের বাইরের কোনো দেশে সম্পদ নিয়ে যাওয়া হলে সর্ব প্রথম এটি সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হয়। এরপর ওই দেশের আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে হয়। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। জটিল প্রক্রিয়া হলেও এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।