জঙ্গিদের রুখতে অর্থায়ন বন্ধের তাগিদ মজীনার

অর্থ জঙ্গিদের অক্সিজেনের মত : জঙ্গিবাদ রুখতে হলে এই অক্সিজেন সরবরাহ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে জঙ্গিবাদ রোধ বিচারকদের বড় দায়িত্ব : এশিয়ায় বিচারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল জঙ্গিবাদের শ্বাসরোধ করা। জনগণের জন্য, সমাজের জন্য রাষ্ট্রের জন্য এটা জরুরি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, অর্থ আর জঙ্গিবাদ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অর্থই জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, অর্থই জঙ্গিবাদের শক্তি আর এই অর্থই জঙ্গিবাদের অক্সিজেন। জঙ্গিবাদকে রুখতে হলে এই অক্সিজেনের সরবরাহ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত মুদ্রা পাচার ও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন শীর্ষক সার্ক আঞ্চলিক বিচার সংক্রান্ত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিচারক ও বিচারিক কর্মকর্তাদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার টেরোরিজম ব্যুরোর সহায়তায় তিন দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। অন্যদের মধ্যে গুয়ামের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রবার্ট জে টরেস, টেক্সাসের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ফ্রাংক মনতালভো বক্তব্য রাখেন। মজীনা তার বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিচারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো জঙ্গিবাদের শ্বাসরোধ করা। জনগণের জন্য, সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য এটা প্রয়োজন। যদিও এটা সহজ কাজ নয়। জঙ্গিবাদ নির্মূলে অর্থ পাচার ও অর্থের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। জনগণকে শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ দিতেই আমাদের এ কাজ করা দরকার। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, অর্থ সংক্রান্ত অপরাধ ও অর্থ জালিয়াতি বন্ধ করতে সংসদে আন্তর্জাতিক মানের আইন তৈরি করতে হবে। যাতে করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারকরা যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র মানি লন্ডারিং বন্ধে কার্যকর ও শক্তিশালী আইন প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সংসদে এ আইন পাস হয়েছে এবং তা কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে মানি লন্ডারদের প্রতিহত করতে ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও জঙ্গিরা আগের তুলনায় অনেক বেশি চতুর বা দক্ষ হয়েছে তাদের প্রতিহত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নতুন নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারি আইনজীবীদেরও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মানি লন্ডার ও জঙ্গিদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নয় বরং দায়িত্বশীলভাবে সরকারকে ব্যবহার করতে হবে। বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাধার মুখে পিছপা হলে চলবে না। আইন অনুযায়ী অপরাধ দমনে তদন্তকারী ও প্রসিকিউটরকে তাদের কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি আপনাদের দিতে হবে। এ লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকেও স্বাগত জানাতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় ও অপরাধীদের এ ধরনের অপরাধ থেকে দূরে রাখার জন্য কী ধরনের শাস্তি দেয়া যেতে পারে সে বিষয়টি অবশ্যই আপনাদের বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে সম্পদ জব্দ করা সবচেয়ে কার্যকর শাস্তির উদাহরণ হতে পারে। যদিও এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে হতাশ হওয়া ঠিক হবে না। কারণ আপনারা শুধু একা এ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি নন। আপনাদের আশ-পাশের অনেক বিচারকও এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। মজীনা বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে এ অঞ্চলের প্রত্যেকটি দেশের একে অপরকে সহায়তা করতে হবে, তথ্য আদান-প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতিগুলোর একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা থাকে। কিন্তু অপরাধী ও জঙ্গিদের এ ধরনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আমাদের সংকীর্ণতার জন্য জঙ্গিদের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারি না। তাই শান্তিপ্রিয় জাতিগুলোকে মানি লন্ডারিং ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একে অপরকে সহায়তা করার বিষয়ে অঙ্গীকার করতে হবে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং ও জঙ্গিবাদের অর্থায়ন বন্ধে কার্যকর পন্থা বেরিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।