কিশোরগঞ্জের হাওরে ব্র্যাকের ৫২ শিক্ষাতরী
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১০
কিশোরগঞ্জের দুর্গম হাওর এলাকায় পানির উপর ভাসছে ব্র্যাকের ৫২টি শিক্ষাতরী স্কুল। দুর্গম অঞ্চলের শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে এই ভাসমান শিক্ষাতরী স্কুল। ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচি-বিপিএস প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া গ্রাম সংলগ্ন হাওরে একটি শিক্ষাতরী স্কুলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আলী।
হাওরের দুর্গম এলাকার শিক্ষাবঞ্চিত গ্রামের পাশে পানির উপর ভাসমান শিক্ষাতরী দিয়ে বিদ্যালয়গুলো চালু করা হয়েছে। একটি বড় স্টিলবডির নৌকায় একেকটি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে টয়লেটের ব্যবস্থাও। নৌকার অভ্যন্তরে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পাটাতনের উপর মাদুর বিছিয়ে তার উপর বসে শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করে থাকে। ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী হতদরিদ্র পরিবারের শিশুরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পায়। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩০ জন। ভর্তির ক্ষেত্রে ছাত্রীদের প্রাধান্য দেয়া হয়। প্রতিটি স্কুলে রয়েছে একজন করে শিক্ষিকা। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই-খাতাপত্রসহ যাবতীয় উপকরণ প্রদান করা হয়। আনন্দ-বিনোদনের জন্য রয়েছে নাচ-গান, অভিনয়, ছবি আঁকা প্রভৃতির ব্যবস্থাও।
ব্র্যাক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে করিমগঞ্জে ৪টি, ইটনায় ১২টি, মিঠামইনে ১৪টি, নিকলীতে ১২টি ও অষ্টগ্রামে ১৯টি ভাসমান শিক্ষাতরী চালু রয়েছে। ব্র্যাকের কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের শিক্ষা কর্মসূচির সিনিয়র এলাকা ব্যবস্থাপক মো. কাওছার জানান, কাতারের রাণীর ‘ওয়াইজ’ নামের সংগঠন এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা করে থাকে।