ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড

বদলে দেয়ার প্রত্যয়

সমাজকে পাল্টে দিতে, নিজেকে বদলে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে একত্রিত হয়েছে ওরা। ওরা মানে একঝাঁক তরুণ-তরুণী। যারা সবাই পড়ছেন চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে (ইডিইউ)। মনের তাগিদ থেকে গঠন করেছেন বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন। লক্ষ্য ভালো কিছু করা। হাত বাড়িয়ে দেয়া। পাশে দাঁড়ানো। চাঁদে যাওয়ার গল্প বেশ পুরনো। তবে আজকের ছেলে-মেয়েদের মেধার কাছে অবাক পুরো বিশ্ব। সৃষ্টির নেশায় মত্ত থেকে প্রতিনিয়ত তারা ছুটে চলেছেন বিবেকের সন্ধানে। শেকড়ের সন্ধানে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘সাংস্কৃতিক সংগঠন করার তাগিদটা আমাদের বহুদিনের। অবশেষে সৃষ্টিশীল কিছু করার জন্য সবাই মিলিত হয়েছি।’ সাংস্কৃতিক চর্চা মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আলোর পথ দেখায়। অনুপ্রেরণা জোগায়। নাচ, গান, কবিতা, আবৃত্তি মানুষের মনের খোরাক। সেই তাড়না থেকে গঠিত হয়েছে কালচারাল ক্লাব। সংগঠনটির উপদেষ্টা সহকারি অধ্যাপক শাহ আহমেদ রিপন বলেন, ‘এই দলের কাজ হলো সবাইকে শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে ভাবতে শেখানো।’ যুক্তি আর তর্ক যদি সঠিকভাবে একসঙ্গে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যায় তাহলে সমাজের অসংকোচ দূর করা সম্ভব। সেই ধারণা থেকে জন্ম হলো ডিবেটিং সোসাইটির। সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক নুরুল আবসার নাহিদ বলেন, ‘তর্কের খাতিরে তর্ক নয়, তর্ক হোক সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার হাতিয়ার। যুক্তি দিয়ে, মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে অসম্ভবকে বদলে দেয়ার শপথ নিতে হবে।’ মানুষ মানুষের জন্য। জীবন জীবনের জন্য। বিপদে বন্ধুর পাশে এগিয়ে আসাই মানবধর্ম। সেই লক্ষ্য থেকে গঠন করা হয়েছে সোস্যাল সার্ভিস ক্লাব। রক্তদান, আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান, ফান্ড গঠন, ত্রাণ বিতরণ সবকিছু হবে এখান থেকে। জানালেন ক্লাবের উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক রাশেদ আল করিম। ক্রীড়ার মাধ্যমে আনন্দদান, হোক না কিছু শেখাও। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে স্পোর্টস ক্লাব। পড়ালেখার পাশপাশি নানা ধরনের গেইমসের আয়োজন করাই এই ক্লাবের মূল লক্ষ্য। ক্রিকেট, ফুটবল, দাবাসহ জনপ্রিয় সব খেলার আয়োজক স্পোর্টস ক্লাব। এই ক্লাবের উপদেষ্টা করা হয়েছে ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ইশতিয়াক আজিজকে। একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়ে বেশি কথা বলে। মানুষের মিশ্রিত অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে সুন্দর ছবির বিকল্প নেই। ছবি তোলার চর্চা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে গঠন করা হয়েছে ইডিইউ ফটোগ্রাফি সোসাইটি। সংগঠনটি দেখভালের জন্য রয়েছেন সহকারী অধ্যাপক রাফিয়া আকতার। বিবিএ’র ছাত্র ইয়াসির আরাফাত বাবন বলেন, ‘আমরা শখের বশে অনেকে ছবি তুলি। বলতে পারেন নেশা। তবে এই ধরনের সংগঠন হওয়াতে ফটোগ্রাফি নিয়ে বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করা হবে। সেখান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবো।’ ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, ‘ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বয়ে আমরা এসব ক্লাব গঠন করেছি। যেখানে ছাত্ররাই আহবায়ক, তারাই সমন্বয়ক। পর্যায়ক্রমে আরো বেশ কিছু ক্লাব গঠন করার চিন্তাভাবনা আমাদের রয়েছে।’