সমঝোতার পথ

সংবিধান থেকে একচুলও নড়া হবে না, সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, জনগণের এমন আন্দোলন শুরু হবে যে, তাতে চুল তো থাকবেই না, বরং সরকার দিশেহারা হয়ে যাবে। তাঁদের দুজনের কথা কতটুকু বাস্তব হবে সেটা সময়ই বলবে, কিন্তু প্রধান দুই দলের দুই নেতার এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য যে আগামী দিনে রাজনীতির জন্য সুখবর নয়, তা খুবই স্পষ্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার পর থেকে বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধীদলগুলো তা পুনর্বহালে আন্দোলন করে আসছে। এই দাবিতে সামপ্রতিক মাসগুলোতে সহিংস আন্দোলন ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক রক্ত ঝরেছে, আর না— এর একটা সমাধান হওয়া উচিত এটা এতদিনে নেতাদের স্মরণে এসেছে। আগামী নির্বাচনকে শুধু অর্থবহ নয়, দেশের মানুষ তথা বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু যখন প্রধান দুই দল বা জোট নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতির প্রশ্নে বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে, তখন উভয় পক্ষের সহাবস্থান নিশ্চিত করাটাই হবে প্রধান কাজ। এই সহাবস্থান নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে হবে। সেই সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে সংলাপ। রাজনৈতিক মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত সংলাপের বাইরে চলে গেলে তা জাতির জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনবে না। রাজনৈতিক সমাধান রাজপথে করতে চাইলে তা কেবল সহিংসতাই বাড়াবে। অতীতে আমরা এর অনেক নজির দেখেছি। এবং তাতে অগণতান্ত্রিক শক্তির আগমনের পথই কেবল প্রশস্ত হয়। ইতিমধ্যে দেশে ঘটে গেছে অনেক সংঘাত-সহিংসতা। সরকারি ও বিরোধী দলের যে অনমনীয় মনোভাব, তাতে আগামী দিনে এই সংঘাত আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে জনগণের মধ্যে। কিন্তু তারা এ থেকে মুক্তি চায়। দেশের মানুষ চায়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দলের সহাবস্থান, যা দেশের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। যে কোনো রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সংলাপের বিকল্প নেই। সংলাপ আয়োজনে আদালতের রুল বলি, আর বিদেশি চাপই বলি, জনগণের আকাঙ্ক্ষা এখানে সবার ওপর। দেশের প্রায় সব মানুষ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ আশা করছে। তাদের আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দিতে হবে দুই দলকেই। আর এ ক্ষেত্রে সরকারকেই পালন করতে হবে অগ্রণী ভূমিকা। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত করতে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তা গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা। সেই সমঝোতার জন্য সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে উভয় দলকেই বসতে হবে সংলাপে। ঢাকা