মাদকের দংশনে বিপন্ন তারুণ্য
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৪
তরুণদের বলা হয় সমাজের প্রাণ। তারুণ্যের স্রোতেই বদলায় সমাজ। তরুণরা আসক্ত ও বিপথগামী হয়ে পড়লে সামাজিক ব্যাধিগুলো প্রকট হয়। সর্বোপরি সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে গিয়ে সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের তরুণ সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন ইয়াবার নেশায় আসক্ত। মস্তিষ্কে চরম উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী এই ‘পাগলা ওষুধ’ এখন অনেক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণীর নিত্যদিনের সাথি। মূলত মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে উত্পাদিত ইয়াবা বিভিন্ন রুটে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বর্তমানে এই দুই দেশে উত্পাদিত ইয়াবার বড় বাজার বাংলাদেশ। সম্প্রতি এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী ইয়াবা আসক্ত নিজ মেয়ের হাতে খুন হওয়ার ঘটনাটি দেশের তরুণ সমাজে মাদকের বিষাক্ত ছোবলের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ঘটনাটি আসক্ত জীবনের ভয়াবহতার বাস্তব চিত্র সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে— যেখানে পরম মায়া মমতায় বেড়ে ওঠা সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে তার জন্মদাতা পিতামাতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করতেও দ্বিধান্বিত হয় না।
সত্যিকার অর্থে মাদকাসক্তি জীবন থেকে জীবন কেড়ে নেয়। হূদয়ের আবেগ-অনুভূতিকে নিষ্ক্রিয় করে জীবনকে হিংস্র ও অপরাধপ্রবণ করে তোলে। এক কথায় মাদকের ঘুণ পোকা এক একটি আসক্ত জীবনকে কুরে কুরে খায়। অপার সম্ভাবনার যে প্রদীপটি জ্বলে উঠেছিল তরুণ প্রাণে তাকে এক ফুঁয়ে নিভিয়ে দেয়। আলোর পথ ছেড়ে আসক্ত প্রাণকে পরিচালিত করে অন্ধকারের পথে। স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠা জীবনকে পরিণত করে নেশার দাসে। সর্বোপরি মাদকাসক্ত জীবন শুধু নিজে নষ্ট হয় না, একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, পঙ্গুত্ব আনে সমাজে।
আশা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ