বিকল্প জ্বালানি হিসাবে কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫১
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, মহাজোট সরকার বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুত্ উত্পাদনে গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমাতে কয়লার ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। দুই-একটি জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা ভাল নয়। জাতীয় নিরাপত্তা দিবস পালন উপলক্ষে গতকাল পেট্রোসেন্টারে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ক্ষেত্রে সরকার বিশ্ব বাণিজ্যের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কিছুদিনের মধ্যেই ভারত থেকে বিদ্যুত্ আসবে। কাতারের গ্যাস আমরা ভবিষ্যতে কিভাবে ব্যবহার করতে পারি সে বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। রেন্টাল বিদ্যুত্ প্রসঙ্গে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অনেকে একে ব্যয়বহুল বলে থাকেন। কিন্তু শুধু ভর্তুকির হিসাব দিয়ে একে বিবেচনা করলে হবে না। বিদ্যুত্ খাতের অগ্রগতির ফলে সার্বিক অর্থনীতির যে অগ্রগতি হয়েছে; সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক এবং বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়া এমপি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।
১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রের পক্ষে বিদেশি তেল কোম্পানি শেল’র কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ৫টি গ্যাস ক্ষেত্রের মালিকানা কিনে নেন। ওইদিন স্মরণে ২০১০ সাল থেকে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা যৌথভাবে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালন করে আসছে। এ বছর এ দিনে ঈদ হওয়ায় গতকাল দিবসটি পালন করা হয়। সেমিনারের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়।
সুবিদ আলী ভুঁইয়া বলেন, বিদ্যুত্ সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে এদেশের কয়লা ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে কয়লা তোলা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে পাইপ লাইনে আবাসিকে আর নতুন গ্যাস সংযোগ না দিয়ে এলপি গ্যাস সহজলভ্য করার জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এ খাতকে অন্যতম জরুরি খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। গত সাড়ে চার বছরে দৈনিক গ্যাস উত্পাদন বেড়েছে ৫৫ কোটি ঘনফুটের বেশি। এতে বিদ্যুত্ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। সে কারণেই বিদ্যুত্ উত্পাদনে সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, কৈলাশটিলা ক্ষেত্রে যে তেলের সন্ধান মিলেছে তা উত্তোলনের কাজ চলতি বছরই শুরু হবে।
বিপিসির চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালে সংস্থাটি গঠনকালে বছরে সাড়ে ৯ লাখ টন তেল আমদানি এবং বিপণন করা হতো। এখন এটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ টন। তেল আমদানি এবং বিপণনের পরিমাণ প্রায় ছয় গুণ বাড়লেও জনবল বাড়েনি। রয়েছে অর্থায়ন সমস্যা। এছাড়া বেশি দামে কিনে ভর্তুকি মূল্যে তেল বিক্রি করতে হয়। এসব কারণে গত ৩৬ বছরেও বিপিসিকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায় নি।