পটুয়াখালীর চার আসনে প্রত্যাশীরা আগেই তত্পর

দলীয় সরকারের অধীনে না তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বড় দুই জোটের মধ্যে সেই প্রশ্নের এখন পর্যন্ত সুরাহা না হলেও বসে নেই দুই জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পটুয়াখালী জেলার ৪টি আসনে দুই জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আরো আগেভাগেই শুরু করেছেন গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা। মনোবাসনা প্রকাশ্যে জানান দিতে শুরু করেছেন রমজানের শুরুতেই ইফতার পার্টির আয়োজন কিংবা অন্যের আয়োজিত ইফতার পার্টিতে অংশগ্রণের মধ্যদিয়ে। কেউ কেউ সংবাদ সম্মেলন করেও তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। এলাকার জনগণকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে রং-বেরংয়ের পোষ্টার, ব্যানার, ডিজিটাল ব্যানার ও ফেষ্টুনে ছেয়ে ফেলেছেন শহর-বন্দর ও হাট-বাজার। কোন কোন মনোনয়ন প্রত্যাশী দীর্ঘদিন পর এলাকায় আসছেন শো-ডাউনের মাধ্যমে। সিটি কর্পোরেশনে সবকটি আসনে বিএনপি প্রার্থীর জয় লাভের পর এই জেলায় বিএনপির চাঙ্গাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। জেলার ৪টি আসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে আসছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪টি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হয়। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়। নবম সংসদ নির্বাচেনে আওয়ামী লীগ আগের হারানো দুইটি আসন পুনরুদ্ধার করে। এবারে নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্নতর। নেতাকর্মীদের এককাতারে দাঁড় করানোর উপর অন্ততঃ তিনটি আসনের জয়-পরাজয় নির্ভর করছে। পটুয়াখালী-১ঃ আসন তিনটি উপজেলা নিয়ে মীর্জাগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালী সদর। এই আসনে বড় দুই দলের মধ্যে রয়েছে গৃহবিবাদ। আওয়ামী লীগের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, আর বিএনপির মধ্যে চলছে প্রকাশ্য বিরোধ। এই আসনে এবার নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান এমপি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া আছেন। আটঘাট বেঁধে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট মোঃ সুলতান আহমেদ মৃধা। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট মোঃ আফজাল হোসেন ও জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার কথা জানান দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, দুমকি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার, স্থপতি নিখিল গুহও এই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী। এখানে বিএনপি সমর্থিত ১৮দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইবেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন্দ্র যুগ্ম মহাসচিব পীরজাদা মুহাম্মদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আবদূর রহমান (শাহআলম) সম্ভাব্য প্রার্থী। পটুয়াখালী-২ (বাউফল)ঃ আসন এলাকা জেলার মধ্যে অধিক শিক্ষিত এলাকা। এই আসনে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচবার নির্বাচিত এমপি বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ আসম ফিরোজ। দলীয় মনোনয়ন চাইবেন শিল্পপতি এসএস ফিরোজ আলম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। এই আসনে বিএনপি জোটের মনোনয়ন চাইবেন সাবেক এমপি মোঃ শহিদুল আলম তালুকদার, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ তালুকদার, স্বেচ্ছসেবক দলের নেতা মোঃ মুনির হোসেন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা)ঃ এই আসন জেলার ৪টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি। এবারে সেখানে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের জন্য এক অশনি সংকেতের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান এমপি গোলাম মাওলা রনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় এবং তিনি নানা কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, এই আসনে তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক বস্ত্রপ্রতিমন্ত্রী আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন কথিত সংস্কারপন্থি হওয়ায় গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন এবং সেখানে প্রায় অচেনা নতুন মুখ গোলাম মাওলা রনিকে এনে মনোনয়ন দিলেও এলাকাবাসী তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারে সবার আগে মাঠে নেমেছেন আখম জাহাঙ্গীর। এখানকার এই অবস্থা কাজে লাগিয়ে গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য শিল্পপতি হাজী মোঃ শাহআলম এক ইফতার পার্টির মাধ্যমে তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দেন। এসব মিলিয়ে এই আসনে এবারে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা এক ডজনেরও বেশি। অন্যরা হলেনঃ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী আলমগীর, গলাচিপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ, দশমিনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আঃ আজিজ, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এস.এম ফজলুল হক, গলাচিপার পৌর মেয়র হাজী ওহাব খলিফা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কামরান শহীদ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আরিফুর রহমান টিটো ও পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ওবায়দুল আলম । আরো তিনজন মনোনয়ন চাইতে পারেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোশারফ হোসেন ও জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত। এই আসনে বিএনপি সমর্থিত জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেনঃ সাবেক এমপি মোঃ শাহাজাহান খান, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ শাহআলম, শিল্পপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন, এডভোকেট গোলাম মোস্তফা ও এডভোকেট আফজাল হোসেন। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী)ঃ এই আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান সুবিধাজনক। বিগত চারটি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হন। আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন দুইবার নির্বাচিত এমপি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুবুর রহমান, আমেরিকা প্রবাসী আওয়ামী লীগ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ইসলাম লিটন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদুল্লাহ ওসমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোতালেব তালুকদার, যুবলীগ নেতা অধ্যক্ষ মহিববুর রহমান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম সোহাগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল আলম টিটো ও টিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান কোক্কা। এই আসনে বিএনপি জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেঃ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবিএম মোশারেফ হোসেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোঃ মনিরুজ্জামান মনির ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গাজী গোলাম সরোয়ার। এছাড়াও এখানে ইসলামী আন্দোলনে প্রার্থী হতে পারেন মুফতি হাবিবুর রহমান।