তারকাগল্প

শুভময় সময়

ছোটপর্দায় প্রতিনিয়তই শুভ কাজ করছেন বৈচিত্র্যপূর্ণ গল্পে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে। এমন সব চরিত্রেই কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন যেখানে একজন অভিনয় শিল্পী নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পায়। আর তাই দারুণ একাগ্রতা নিয়ে থেকে একের পর এক চরিত্রে অভিনয় করে চলছেন। আর যা-ই করছেন, তাতেই তিনি পাচ্ছেন দর্শকপ্রিয়তা। ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দায় সমানতালে জনপ্রিয় এই অভিনেতার খবরে উপস্থিতি কম হলেও নির্মাতা কিংবা কো-আর্টিস্টদের কাছে তিনি বেশ গ্রহণযোগ্য। বর্তমানে শুভ নাটকের চেয়ে চলচ্চিত্রেই বেশি সময় দিচ্ছেন। খিজির হায়াত খান পরিচালিত ‘জাগো’ সিনেমার মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। প্রায় ৩ বছর পর তিনি মোস্তফা কামাল রাজের ‘ছায়াছবি’ চলচ্চিত্রে দ্বিতীয়বারের মতো অভিনয় করেন। এ ছাড়া সাফী উদ্দিনের ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’তে অভিনয় করছেন। এবার ব্যতিক্রমী চমক নিয়ে আসছে এই ছবিটি। এ ছবিতে শুভ উপস্থাপিত হচ্ছেন একটু ভিন্নভাবে। এই সিনেমায় নায়ক চরিত্রে আছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান আর ভিলেন চরিত্রে আরেফিন শুভ। নায়ক কিংবা ভিলেন, দুজনই কিন্তু অভিনেতা। তথাপি নায়কের গুরুত্ব বিশ্বের সব সিনেমাতেই বেশি। কারণ বিশ্বের সব সিনেমার শেষ ভাগে নায়কেরই জয় হয়। আর তাই দর্শক আনুকূল্য নায়কের পক্ষে বেশি থাকে। অবশ্য ইদানীং হিন্দি সিনেমার পরিচালকেরা নায়ক এবং ভিলেন দুজনের গুরুত্বই সমহারে প্রকাশ করছেন। দর্শকরাও বিষয়টি লুফে নিচ্ছেন। নায়ককে সবসময় সুদর্শন আর ভিলেনকে বদসুরত হতে হবে এমন ধারণা থেকে বেরিয়েছে এসেছে বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বরং এখন অনেক সিনেমায় নায়কের চেয়ে ভিলেন নির্বাচনেই অভিনেতার সৌন্দর্য নিয়ে বেশি ভাবা হচ্ছে। অনেক জনপ্রিয় নায়কই অভিনয় করছেন খল চরিত্রে। শাহরুখ খান অভিনীত ‘ডন’ কিংবা সঞ্জয় দত্ত অভিনীত ‘অগ্নিপথ’ সিনেমার সাফল্য সে কথাই প্রমাণ করে। তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন নায়ক কিংবা ভিলেন কোনো চরিত্রই গুরুত্বহীন নয়। এতদিন আমাদের সিনেমায় এ বিষয়টি মাথায় রাখা হয়নি। সুদর্শন কিংবা নায়ক ইমেজের কাউকেই ভিলেন হিসেবে পর্দায় উপস্থাপনের সাহস দেখাননি পরিচালকেরা। এবার বদলে যেতে শুরু করেছে দৃশ্যপট। নির্মিতব্য নতুন ছবি ‘পুর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’তে পরিচালক শাকিব খানকে নায়ক আর আরেফিন শুভকে ভিলেন হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করেছেন। ছবিটিতে নায়িকা চরিত্রে আছেন জয়া আহসান। আরেফিন শুভ বলেন, ‘নায়ক নাকি ভিলেন, এটা আমার কাছে বিবেচ্য নয়। আমি অভিনেতা। সিনেমাটির কাহিনী এবং চরিত্রের গুরুত্ব ভিলেন হিসেবে কাজ করতে উত্সাহিত করেছে। আশা করি দর্শকও ছবিটি উপভোগ করবেন।’ সম্প্রতি সোহানুর রহমান সোহানের ‘জ্বালা বড় জ্বালা’, ফয়সাল রাব্বি পরিচালিত ‘এ কেমন প্রেমের গল্প’ এবং এফ আই মানিক পরিচালিত ‘এত কষ্ট কেন ভালোবেসে’ নামের ছবির জন্য শুভ চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে শুভ বলেন, ‘মিডিয়াতে কাজ করার একেবারে শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল চলচ্চিত্র। তাই বলে যে ছবির প্রস্তাব আসবে, তাতেই রাজি হয়ে যাব এমন কোনো ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। ধৈর্য ধরেছিলাম। তার ফলও পাচ্ছি এখন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভালো গল্প আর ভালো নির্মাতা এবং সর্বোপরি ভালোমানের কাজই করতে চাই। এজন্য আমি নিজেকে সেভাবে তৈরিও করেছি। ৩ বছরে ৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। মনোযোগ দিয়ে সিনেমার কাজ করার জন্যই আপাতত নাটকে অভিনয় করছি না। তবে ব্যস্ততা কমলে আবার টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করব।’ উল্লেখ্য, র্যাম্প মডেল হিসেবে মিডিয়ায় আরেফিন শুভর অভিষেক হয়েছিল। এরপর একটি এফএম রেডিওতে কথাবন্ধুর কাজও করেছিলেন তিনি। তারপর মডেলিং আর পরে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ওয়েটিং রুম’ নাটকের মধ্য দিয়ে টিভি পর্দায় নাম লেখান। এ মুহূর্তে ব্যাংককে অবস্থান করছেন শুভ। ‘অগ্নি’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্যই তার এই ব্যাংককে যাওয়া। জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে ছবিটি পরিচালনা করছেন ইফতেখার চৌধুরী। এ ছবির মধ্য দিয়েই প্রথমবার একসাথে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন আরেফিন শুভ ও মাহি। ‘অগ্নি’ ছবিটি প্রসঙ্গে আরেফিন শুভ বলেন, ‘ছবির গল্পটি অনেক সুন্দর। শুনেই এক কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। আমার বেশি আগ্রহ ছিল পরিচালক ইফতেখার চৌধুরীর জন্য। কারণ, তার টেলিফিল্মে অভিনয় দিয়েই আমি আজকের শুভ। আরেফিন শুভ অভিনীত ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ‘ছায়া-ছবি’ এবং দেবাশীষ বিশ্বাসের পরিচালনায় ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’। এ ছবি দুটিতে শুভর নায়িকা হিসেবে রয়েছেন যথাক্রমে পূর্ণিমা ও আইরিন।