মু খো মু খি

মানসিক তৃপ্তির জন্যই শিল্পীরা অ্যালবাম করছে

ওয়ারফেইজের বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে একটু বলুন। এর মধ্যে সেরকম কোনো ব্যস্ততায় ছিলাম না আমরা। দেশের বর্তমান অস্থিতিশীলতার কারণে গত এক বছরে অনেক শো বাতিল হয়েছে। লাইভ শোয়েও ব্যস্ততাটা তেমন ছিল না। তবে নিজেদের কাজ থেমে নেই, গানের কম্পোজিশন চালিয়ে যাচ্ছি নিয়মিত, টুকটাক এগিয়েছিও আমরা। নতুন অ্যালবাম কবে আসবে? নতুন অ্যালবামের গানের কম্পোজিশন চলছে। এর বাইরেও বিভিন্ন প্রজেক্ট আছে আমাদের হাতে। এখনকার অডিও ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাইছি। সবাই ফিজিক্যাল সিডিতে কনফিউজড, কেননা এগুলো পাইরেসি হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি পাইরেসি নিয়ে ওয়ার্ল্ড মিউজিক ও লেজার ভিশন তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে আপনার মতামত কী? এই বিষয়টা হয়তো আজ মানুষের চোখের সামনে এসেছে। কিন্তু শিল্পীরা এর খানিকটা জানে বহু আগে থেকেই। আর এসব কারণেই শিল্পী ও প্রোডাকশন হাউজের মধ্যে খানিকটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আর সেই দূরত্ব থেকেই আজকের ইন্ডাস্ট্রির এই অবস্থা। সবাই এখন নিজেরাই প্রযোজক। কেউ রেডিওতে, কেউ মোবাইলে আবার কেউ অনলাইনে। প্রত্যেকেই নতুন অ্যাভিনিউ খোঁজার চেষ্টা করছে। এটা থেকে উত্তরণের উপায় কী? উত্তরণের উপায় নিয়ে তো শুধু শিল্পীরাই ভাবছে। একপক্ষ ভাবলে তো এর সমাধান হবে না। প্রযোজকরা নিজেরাই নিজেদের ইন্ডাস্ট্রি, নিজেদের ব্যবসা নষ্ট করছে সাময়িক কিছু লোভের কারণে। শিল্পীদের ঠকানো নিয়েই ব্যস্ত তারা। যেদিন শিল্পী ও প্রযোজকদের মধ্যে সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বের এবং মধুর। সেদিন ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো সংকট হয়তো চোখে পড়বে না। শিল্পী এখন নিজেই তার অ্যালবামের প্রযোজক। এ বিষয় কতটুকু লাভজনক হচ্ছে বলে মনে করেন? শিল্পীদের তো অ্যালবাম বের করতে হবে। যখন প্রোডিউসারদের সঙ্গে নানা কারণে বনছে না, তাই ভিন্ন উপায়ে চলার চেষ্টা করছে সবাই। লাভ হোক, আর নাই হোক মানসিক তৃপ্তি পাচ্ছে সবাই। তবে এতেও লাভ হবে, যদি শিল্পীরা নিজেদের কনেটেন্ট সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হয়। এটা খুবই জরুরি। গত দুই বছরে দেশব্যাপী হিট এই ধরনের কোনো গান বাজারে আসেনি... বিশেষ করে ব্যান্ডের গান। এই প্রসঙ্গে কী বলবেন? ‘বিগ সং’। এটা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। কখন কোন গান শ্রোতা কীভাবে নেবে, এটা আপনি আমি, শিল্পী, শ্রোতা কেউই বলতে পারব না। কোন গানটা শ্রোতার কাছে কখন ভালো লেগে যেতে পারে এটা কেউ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারবে না। দেখা যায়, যেই গানের পেছনে অনেক বেশি মার্কেটিং, সময়, পরিশ্রম দেওয়া হলো, কিন্তু ওই গানটা ফ্লপ হয়ে গেল। আবার দেখা যায়, যেই গানটিকে ফ্লপ হিসেবে ধরে কাজ করা, তাই কোনো মার্কেটিং বা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সেটিই তুমুল হিট হয়ে গেছে। এটা ভাগ্যের একটা বিষয়। তারপরও মার্কেটিং বিশাল একটা ভূমিকা রাখে। ওয়ারফেজের অধিকাংশ হিট গানই সঞ্জয় আর বাবনার গাওয়া। তারা দু’জনই এখন আপনাদের ব্যান্ডে নেই। তাদের সঙ্গে আপনাদের যোগাযোগসহ বর্তমান সম্পর্কের বিস্তারিত জানতে চাইছি। আমাদের প্রথম ৪টা অ্যালবামে সঞ্জয় আর বাবনা ছিল। এরপরেও কিন্তু অসংখ্য গান হিট হয়েছে। মিজানের গাওয়া বহু গান হিট। তারা এখনও আমাদের পরিবারের মতো। অ্যালবামের যাবতীয় বিষয়ে মানসিকসহ বিভিন্ন উপায়ে এখনও তারা আমাদের সহযোগিতা করে। দেশে এলেই তাদের সঙ্গে আড্ডা হয়। এমনকি আমাদের সর্বশেষ অ্যালবামেও তাদের স্মরণ ও ভালোবাসা জানিয়েছি আমরা। সবশেষে ভক্তদের জন্য কিছু বলুন। ভক্তদের জন্য বলতে চাই, আমাদের ওয়ারফেজের এসএমএস টুইটের সার্ভিস আছে। ওয়ারফেজ সম্বন্ধে যদি ভক্তরা কোনো কিছু জানতে চায় তাহলে যেকোনো অপারেটর থেকে warfze start লিখে ৩৩৩৩ নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই আমাদের আপডেট সম্বন্ধে জানতে পারবে।