শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা :রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা

ধীরে ধীরে শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ওঠানামার মধ্য দিয়ে সূচক বাড়ছে। লেনদেনও হচ্ছে ভালো। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফে সরকারের দেয়া ৯০০ কোটি টাকা ঋণের প্রথম কিস্তি ইতিমধ্যে ছাড় হয়েছে। তাছাড়া প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে কিছুটা মুনাফা পাওয়ার প্রবণতায় বিনিয়োগকারীরা হারানো আস্থা ফিরে পেতে শুরু করছেন। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সঠিকভাবে লেনদেন করলে বাজার একটি স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাবে। তবে এজন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় বাজার ফিরে যাবে পুরনো চেহারায়। এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা এখনও কাটেনি। তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ডিএসইএক্স গত ২ মে ৩ হাজার ৪৬৮ পয়েন্টে ছিল। এরপর ওঠানামার মধ্য দিয়ে গত মঙ্গলবার ৪ হাজার ১৩২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। লেনদেনও হচ্ছে ভালো। ঈদকে কেন্দ্র করে মাঝে লেনদেন কমে গেলেও এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ না বাড়লে এ প্রবণতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় বাজারে ফের বড় প্রভাব পড়তে পারে। তথ্যে দেখা গেছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ডিএসই’র সাধারণ মূল্য সূচক ৮ হাজার ৯০০ পয়েন্টে উঠে যায়। পরে দরপতন হতে শুরু করে। সূচক কমতে কমতে একপর্যায়ে তা সাড়ে তিন হাজারে নেমে আসে। এখন আবার কিছু কিছু করে বাড়ছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০১০ এ প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারের দাম অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ায় ডিএসই’র সূচক এত উপরে উঠে গিয়েছিল। ফলে এর পতন ছিল অপরিহার্য। বরং এখন সূচক যে পরিস্থিতিতে রয়েছে এটিই স্বাভাবিক। তবে এখনও কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ারের দর আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, গোটা বাজারের ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ারের দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর পড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মৌলভিত্তি ভালো না হলেও কোম্পানিগুলোর দর কৃত্রিমভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ কোম্পানিগুলোর শেয়ারহোল্ডাররা চাপে পড়তে পারেন। তবে গোটা বাজারের পিই (দাম ও আয় অনুপাত) এখনও বেশি নয়। তাছাড়া সূচক ওঠানামার মধ্যে থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতিকেই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বিনিয়োগকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজার থেকে কোম্পানির টাকা তোলার অনুমোদনের ব্যাপারে বিএসইসি’র (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) ভূমিকায় তারা সন্তুষ্ট নন। কিছু কিছু কোম্পানির ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা থাকলেও বাজার থেকে প্রিমিয়ামসহ টাকা তোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এমনকি আইপিও (প্রাথমিক গণ প্রস্তাব) স্থগিত করেও পরে আবার তাদেরকে টাকা তোলার সুযোগ করে দিয়েছে বিএসইসি। এসবের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিএসইসি’র ভূমিকা নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসই প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে কথা বললে তিনি ইত্তেফাক’কে বলেন, ধীরে ধীরে বাজারের লেনদেন বাড়ছে। এতে বুঝা যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তাছাড়া সামপ্রতিক সময়ে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টও বাড়ছে। আস্থা বাড়ছে বলেই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আসছেন। এগুলো শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা পূর্বশর্ত। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বহাল থাকলে শেয়ারবাজার ও গোটা অর্থনীতিই চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।