গাংনীতে এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ সালমা( ২৫)। গত ৭দিন যন্ত্রণায় কিছু মুখে দিতে পারেনি সে। অর্থের অভাবে ভাল চিকিত্সাও হচ্ছে না তার। দাবিকৃত যৌতুক পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে পাষণ্ড স্বামী। সালমা গাংনীর রামনগর গ্রামের আবু বকরের ছেলে রিপনের স্ত্রী। এ ব্যাপারে সোমবার গাংনী থানায় স্বামী ও শাশুড়ীকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন সালমার মা পারুলা খাতুন। এরপর আত্মগোপন করেছে স্বামী ও শাশুড়ী। সালমার মা পারুলা খাতুন জানান, বছর সাতেক আগে সালমার সাথে রিপনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কোন যৌতুকের দাবি না থাকলেও বিয়ের কয়েক মাস পর ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। বাড়ির বসতভিটা বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধ করা হয়। এছাড়াও মাঝে-মধ্যে নানা অজুহাতে সালমার কাছে টাকা দাবি করা হতো। এ দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সালমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়। গৃহবধূ সালমা জানান, মাঝে-মধ্যে যৌতুকের কারণে তাকে খেতে দেয়া হতো না। বেধড়ক মারপিট করা হতো। শাশুড়ীও যোগ দিতো ছেলের সাথে। মারধরের সময় বলা হতো ঢাকায় অথবা ভারতে বিক্রি করে দেয়া হবে। একমাত্র সন্তান শিমুলের(২) ভবিষ্যত্ ভেবে নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর বাড়িতে থাকতে হতো। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, রোগীর মুখ, বুকসহ দেহের বিভিন্ন স্থানে আগুনে ঝলসে গেছে। সিগারেটের ছ্যাঁকা রয়েছে বুক ও পিঠের উপর। তার উন্নত চিকিত্সা জরুরি। অন্যথায় তার দেহে পচন ধরতে পারে। গাংনী থানার ওসি মাসুদুল আলম জানান, গৃহবধূর মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।