গণেশ হালুইয়ের ‘বাস্তবের ছন্দ’
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২২:১০
বাংলাদেশের জামালপুরে জন্ম নেয়া শিল্পী গণেশ হালুই ভারতের সমকালীন শিল্প-আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। চল্লিশের দশকে দেশ ছেড়ে গেলেও আশি ছুঁই ছুঁই বয়সেও জন্মভূমির টান কাটেনি। জন্মভূমিকে ঘিরে শিল্পী স্বপ্ন দেখেন আজো। সেই স্বপ্নের টানেই এসেছেন বাংলাদেশে। জন্মস্থান জামালপুরে তৈরি করবেন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। কলকাতার আকার প্রকার গ্যালারির সহযোগিতায় বেঙ্গল গ্যালারির আয়োজনে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বারো দিনব্যাপী তার একক চিত্রকলা প্রদর্শনী ‘বাস্তবের ছন্দ’।
জলরঙের ৬৫টি শিল্পকর্ম রয়েছে প্রদর্শনীতে। এ ছবি বিক্রির টাকা দিয়েই জামালপুরে তৈরি হবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। গতকাল সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী রফিকুন নবী ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ সরণ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শিল্পী গণেশ হালুই।
গণেশ হালুইয়ের সৃষ্টিতে নিসর্গের অন্তর-সৌন্দর্যের নানা দিক উন্মোচিত হয়েছে। তার নিসর্গবোধ কত সূক্ষ্ম, তীব্র ও সংবেদনময় তা তার সৃষ্টিতে দ্যুতিময় হয়ে ধরা পড়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি তার অনুভূতিকে তুলে ধরেছেন। বিমূর্ত অনুধ্যানে ধৃত এই অনুভব শিল্পীকে এক ব্যতিক্রমী শিল্পীতে পরিণত করেছে। এই সৃজনধারার মধ্য দিয়ে তিনি এখন ভারতবর্ষের অগ্রগণ্য শিল্পী। প্রদর্শনীর চিত্রগুচ্ছ একদিকে সঙ্গীতের গুণাবলীসমৃদ্ধ; অন্যদিকে হূদয়ে আলোড়ন ও ঝড় তোলে।
শিল্পী গণেশ হালুইয়ের জন্ম ১৯৩৬ সালে বাংলাদেশের জামালপুরে। তিনি কলকাতার সরকারি কলেজ অব আর্টস এন্ড ক্রাফটসের অ্যাপ্লাইড আর্ট বিভাগ থেকে ১৯৫৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এ পর্যন্ত তার ১৯টি একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে এবং বহু দলগত প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ১৯৫৫ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত কলকাতার অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস কর্তৃক চারুকলায় ছয় বার স্বর্ণ পদক লাভ করেন। গণেশ হালুই ২০১০ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত ‘হীরাচাঁদ দুর্গা স্মারক’ সম্মান লাভ করেন। তিনি ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নৃত্য নাট্য-সঙ্গীত ও দৃশ্যকলা অ্যাকাডেমি প্রদত্ত ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অ্যাকাডেমি’ সম্মান লাভ করেন। ২০১২ সালে ক্যালকাটা পেইন্টার্স কর্তৃক সম্মাননা জ্ঞাপন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত কলকাতার গভ. কলেজ অব আর্টস এন্ড ক্রাফটস-এ শিক্ষকতা করেছেন। প্রদর্শনী আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।