আদিলুরকে মুক্তি দিতে মজীনার আহ্বান
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০০
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্রের মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আহবান জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে অধিকারের কার্যালয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ শেষে তিনি এ আহবান জানান। সাংবাদিকদের কাছে আদিলুরের বিষয়টি নিয়ে তার এবং মার্কিন সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্তি দিতে আহবান জানান। এ সময় তার সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিভাগের লেজিসলেটিভ এসিস্ট্যান্ট টেরেন হেনরিসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন।
দুপুর ১২ টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অধিকারের কার্যালয়ে যান এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলাপ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধিকারের প্রেসিডেন্ট সি আর আবরার, সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সায়রা রহমান খান, পরিচালক নাসির উদ্দিন এলান ও সিনিয়র রিসার্চার তাসফিন ফাহমিনা। আলাপের বিষয়ে সি আর আবরার বলেন, আদিলুরের গ্রেফতার, কারাগারে ডিভিশন না দেয়া, অধিকার কর্মীদের হয়রানি ও অধিকার কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারীর ঘটনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা তার সরকারের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। আদিলুরের গ্রেফতার ও অধিকার নিয়ে নানা হয়রানির বিষয়টিতে শুধু মার্কিন সরকার নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নজরে রেখেছে। সূত্রমতে, আদিলুরের মর্যাদা অনুযায়ী কারাগারে ডিভিশন না দেয়া ও অধিকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা দেয়ার বিষয়টি মার্কিন সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ভালভাবে গ্রহণ করেননি।
নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনা বলেছেন, নবজাতকের মৃত্যুহার কমানো ও সেবা কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) পরিদর্শন শেষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিএসএমএমইউ’র শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত ও ইউএসএআইডির পরিচালক রিচার্ড গ্রিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা দিক তুলে ধরেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মো. শহীদুল্লাহ। এ সময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন মিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জুলফিকার রহমান খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. এসএম জাকারিয়া স্বপনসহ হাসপাতালের পরিচালক, শিক্ষক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির সদস্য, সিনিয়র নার্স ও বিভিন্ন অফিস প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে বিএসএমএমইউ’তে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবজাতকদের আইসিইউ, নিউরো ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অটিজম ইন চিলড্রেন সেন্টার, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টারসহ হাসপাতালের নবনির্মিত আউটডোর ও বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন মজীনা। এর পর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২১ হাজার পাঁচশ’ সংখ্যাটি আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। কারণ, বাংলাদেশে অক্সিজেনের অভাবে বা অ্যাসফিক্সিয়ায় প্রতি বছর এই সংখ্যক নবজাতক মৃত্যুবরণ করে। অ্যাসফিক্সিয়া নবজাতক মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। বাংলাদেশ এই সংখ্যা কমাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পরের প্রথম মিনিটে জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে পথ দেখাচ্ছে বিএসএমএমইউ। এ প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজারের বেশি ধাত্রী ও স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। যারা জন্মলগ্নে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট পাওয়া শিশুদের বাঁচাতে সহায়তা করবে। প্রশিক্ষিত ধাত্রী ও সেবাদানকারীর সংখ্যা ৩০ হাজারে উন্নীত করতে হবে। তিনি বলেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৬০ শতাংশ শিশুর মৃত্যু তার জীবনের প্রথম ২৮ দিনের মধ্যে ঘটে। নবজাতকদের জন্য আইসিইউ ধরনের কেন্দ্র শিশু মৃত্যুহার কমানোর জন্য অপরিহার্য। নবজাতকের শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দূর করতে ইউনিসেফ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তায় বিএসএমএমইউতে যে ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে তার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত।