শত বছরের স্বপ্ন পূরণ

রুহাই। পশ্চাদপদ চলনবিলের অবহেলিত একটি গ্রাম। গুরুদাসপুর, তাড়াশ আর সিংড়া উপজেলার সীমান্তে গ্রামটির অবস্থান। শত বছর ধরে ‘বর্ষায় নাও আর হেমন্তে পা’-নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থায় আটকে ছিল রুহাই। সম্প্রতি গ্রামটির অদূরে বিলসায় নির্মিত হয়েছে ১৭৫ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ। সেই সাথে রুহাই থেকে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় পর্যন্ত সাড়ে ১০ কি.মি. দীর্ঘ একটি পাকা সড়ক। পূরণ হয়েছে যোগাযোগ সুবিধা বঞ্চিত রুহাইবাসীর শত বছরের স্বপ্ন। রুহাই থেকে রাজাপুর পর্যন্ত আধুনিক সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। নাটোর নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে- গুরুদাসপুর-তাড়াশ মৈত্রী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চাঁচকৈড় থেকে গুরুদাসপুরের রুহাই সীমানা পর্যন্ত সাড়ে ১০ কি.মি. সড়কের মধ্যে ৩ কি.মি. সাবমার্জেবল সড়ক (ডুবো সড়ক)। ভরা বর্ষায় চলনবিলের উত্তাল ঢেউয়ে সড়কটি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য সড়কের উভয় পাশে নেট ও ব্লক দিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আর দুই লেন বিশিষ্ট ১৭৫ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। আনোয়ার ট্রেডার্স ও সরকার কন্সট্রাকশন নামে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই কাজগুলো করেন। চলনবিলের কৃষি ও কৃষকের পরিবহন ব্যবস্থা বিবেচনায় বিলসায় আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ছয় স্প্যান বিশিষ্ট ১৭৫ মিটার দীর্ঘ ও ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট ওই ব্রিজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি দিয়ে একই সাথে গরু/মহিষের গাড়িসহ বাস-ট্রাক চলাচল করতে পারবে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ব্রিজটিতে পৃথক দু’টি লেন রাখা হয়েছে। একই সাথে ভরা বর্ষায় যাতে নৌচলাচলে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিলসা গ্রামের সোহরাব হোসেন জানালেন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আগে মুমূর্ষু রোগীকে বাঁশের মাচায় করে পায়ে হেঁটে উপজেলা সদরের হাসপাতালে নিতে হতো। সময় বেশি লাগার কারণে পথেই অনেক রোগীর মৃত্যু হতো। এখন ব্রিজ আর পাকা সড়ক নির্মিত হওয়ায় মাত্র ১০ মিনিটেই হাসপাতালে পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে। ওই গ্রামের আফজাল হোসেন জানালেন, চলনবিলের বিলসা গ্রামের সন্তান সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় চলনবিলে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। বিলসা গ্রামের গৃহস্থ ওসমান গনি জানালেন, আগে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিলসা চলনবিলে উত্পাদিত ধান পরিবহনে বস্তাপ্রতি ১শ’ টাকা ব্যয় হতো। এখন মাত্র ১০ টাকা লাগছে। সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে এই এলাকার কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। সেসব বিবেচনা করেই বিশাল এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নেয়া হয়েছিল। এখন তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ আগষ্ট এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নির্মাণ কাজে বিঘ্ন ঘটায় এটি শেষ হতে একটু বেশি সময় লেগেছে। অক্টোবর মাসের শেষদিকে বৃহত্ এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।