কোরবানির পশুরহাট ইজারায় সিন্ডিকেটের অভিযোগ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। এসব অস্থায়ী হাটের টেন্ডার আহ্বান করেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন। তবে এ নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ রয়েছে। কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সরকার দলীয় নেতাদের দখলের চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। এ ব্যাপারে ডিসিসি উত্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল ইত্তেফাককে জানান, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী এবার রাস্তায় পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই হাইকোর্ট এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তিনি জানান, কোরবানি ঈদের তিনদিন আগে রাজধানীতে গরুর হাটগুলো চালু হবে। তবে এক সপ্তাহ আগেই এসব অস্থায়ী হাটে গরু-ছাগল ওঠা শুরু হবে। এসব পশুর হাটের হাসিল শতকরা ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেক হাটে ইজারাদারদের হাসিল সাইনবোর্ডে টাঙ্গানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে তিনি জানান। হাট বরাদ্দ নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ :এদিকে রাজধানীর গরুর হাট বরাদ্দ নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেট করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সবচেয়ে বড় অস্থায়ী পশুর হাট আরমানিটোলা খেলার মাঠের দর গত বছরের চেয়ে ২ কোটি ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত বছরে সর্বোচ্চ দর ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে এবার সিন্ডিকেট দর দিয়েছে ২ কোটি ১১ লাখ ৫০১ টাকা। অপর দিকে মেরাদিয়া বাজার খিলগাঁও হাটের দরপত্র কমেছে ১৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে এগুলোর পুন:টেন্ডারের ঘোষণা দিয়েছে ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালেদ আহমেদ। নগর ভবন ও আঞ্চলিক অফিসগুলো মিলিয়ে ১০ টি হাটের বিপরীতে ৯৫ টি দরপত্র জমা পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে ডিএসসিসি অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারায় অংশগ্রহণকারী সবার উপস্থিতিতে অস্থায়ী ১০ টি কোরবানির পশুর হাটের ইজারার দরপত্র খোলেন সম্পত্তি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তাসহ অন্যরা। তাতে দেখা যায়, আরমানিটোলা খেলার মাঠের জন্য ৬টি দরপত্র জমা পড়েছে, সর্বোচ্চ দরদাতা মো. ইলিয়াস রশিদ ২ কোটি ১১ লাখ ৫০১ টাকা ,গত বছর সর্বোচ্চ দর ছিল ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এবার দর কমেছে ২ কোটি ২৭ লাখ ২৯ হাজার ৪৯৯ টাকা। ইলিয়াস রশিদ দক্ষিণের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এই হাটের জন্য আরো দু’জন দরপত্র জমা দিলেও তাদের দরে ছিল বিস্তর ফারাক। হাজী মো. আলম রিপন দর দিয়েছেন ১ কোটি ৫১ লাখ এবং এম এ মান্নান ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। একটি সূত্রে জানা গেছে, এরা দু’জনও ইলিয়াস রশিদের লোক। মেরাদিয়া বাজার খিলগাঁও পশুর হাটের ৪টি দরপত্র জমা পড়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা মো. শরীফ। তিনি দর দিয়েছেন ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার নিকটতম দরদাতা হাজী শাহ আলম দর দিয়েছেন ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই পশুর হাটের গত বছর সর্বোচ্চ দর ছিল ৩৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা । এবছর দর কমেছে ১৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। শরীফ ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। পোস্তগোলা শ্মশানঘাট হাটের জন্য ৩টি দরপত্র জমা পড়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা হাজী মো. রুবেল। তিনি দর দিয়েছেন ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার নিকটতম দরদাতা ডালী মামুন অর রশীদ দর দিয়েছেন ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। গত বছর হাটটির দর ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠের জন্য ৫টি দরপত্র জমা পড়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা শহিদ উদ্দিন সেলিম ২৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫ শত টাকা। তিনি ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক। তার নিকটতম দরদাতা ছিলেন মো. সুলতান মিয়া। তিনি দর দিয়েছিলেন ২১ লাখ ৬৪ হাজার। গত বছর এই হাটটির সর্বোচ্চ দর ছিল ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ধূপখোলা ইস্ট এণ্ড ক্লাব মাঠের জন্য ৩টি দরপত্র জমা পড়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা ওই ক্লাবটিই। ক্লাবটি হাটের দর হেকেছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। নিকটতম দরদাতা ছিলেন আব্দুল কাদির। তিনি দর দিয়েছেন ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। এটির গত বছর দর ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। গোলাপবাগ মাঠের জন্য ৬টি দরপত্র জমা পড়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা জমির আলী ৬১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। গত বছর দর ছিল ৩২ লাখ টাকা। সাদেক হোসেন খেলার মাঠের জন্য দরপত্র জমা পড়েছে ৩টি। সর্বোচ্চ দরদাতা রশিদুল হক ভুঁইয়া ২৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা। গত বছর দর ছিল ২৬ লাখ টাকা। রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ ৪টি দরপত্র জমা পড়েছে সর্বোচ্চ দরদাতা রহমতগঞ্জ মুসলিম সোসাইটি ক্লাব ৬ লাখ ৩১ হাজার ৬৮৯ টাকা। গত বছর ছিল ৬ লাখ ১ হাজার ৬০৮ টাকা। ঝিগাতলা হাজারীবাগের জন্য ৭টি দরপত্র জমা পড়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার ২০ টাকা। গত বছর দর ছিল ২০ লাখ ৫ হাজার টাকা। যেসব স্থানে হাট বসছে :আরমানিটোলা খেলার মাঠ, উত্তর শাজাহানপুর রেলওয়ে খেলার মাঠ, ধূপখোলা মাঠ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের খেলার মাঠ এবং পোস্তগোলা খালি জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ খেলার মাঠ, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, মেরাদিয়া বাজার, সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন খোলা জায়গা, গোলাপবাগ খেলার মাঠ, উত্তরা আজমপুর প্রাইমারি স্কুলের মাঠ, বনানী রেলস্টেশন সংলগ্ন খালি জায়গা, আগারগাঁও বস্তি সংলগ্ন খালি জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন খেলার মাঠ এবং বারিধারা জে-ব্লক বাইপাস সংলগ্ন খালি জায়গা (সাবেক নুরের চালা মাঠ)। এছাড়াও রাজধানীর সর্ববৃহত্ গাবতলী পশুর হাটও থাকছে কোরবানিতে। ডিসিসি সূত্র জানায়, বিগত সময় ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় পশুর হাট বসতো ১৫টি। ডিসিসি বিভক্ত হবার পর এবছর এই হাটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ এ ।