ক্রুইফের ঘোষণা ছাড়া চূড়ান্ত হলো জাতীয় দল

চূড়ান্ত জাতীয় দল গোলপোস্টে মামুন খান, বিপ্ল¬ব ভট্টাচার্য ও জিয়াউর রহমান জিয়া। রক্ষণভাগে আশরাফ মাহমুদ লিংকন, আতিকুর রহমান মিশু, ওয়ালি ফয়সাল, রায়হান হাসান, আরিফুল ইসলাম ও নাসির উদ্দিন চৌধুরী। মাঝমাঠে ওমর ফারুক বাবু, মামুনুল ইসলাম (অধিনায়ক), মোবারক হোসেন, জাহিদ হোসেন, সোহেল রানা ও জামাল ভুইয়া। স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি, সাখাওয়াত রনি, ওয়াহেদ আহমেদ, তকলিস আহমেদ ও মিঠুন চৌধুরী। ঢাকায় বসে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য চূড়ান্ত জাতীয় দল ঘোষণা করতে পারেনি ডাচ কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফ, বলেছিলেন সময় আছে হাতে। নেপালে গিয়ে চূড়ান্ত করবেন। তার নাকি খেলোয়াড়দের আরো দেখার ব্যাপার রয়েছে। কিন্তু দশম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে কাঠমান্ডুতে এসেও দল ঘোষণা করতে পারেননি তিনি। কারণ তার পছন্দ চূড়ান্ত করার আগেই খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের সময় চলে গেছে। এ জন্য ২২ জনের দল থেকে সোহেল এবং পরে যোগ দেয়া মোনায়েম খান রাজুকে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। কারণ রেজিস্ট্রেশন না করানোয় মাঠে নামার সুযোগ নেই তাদের। সোহেল ইজুরির কারণে বাদ পড়লেন। ফলে ক্রুইফের আর আনুষ্ঠানিক ভাবে চূড়ান্ত দল ঘোষণার প্রয়োজন হয়নি। তার ঘোষণার আগেই ২০ জনের চূড়ান্ত দল নিশ্চিত হয়ে যায়। বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের প্রত্যাশা সাফ কাপ নিয়ে ঘরে ফিরবে জাতীয় দল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এই প্রত্যাশা পূরণের জন্যই ডাচ কোচদের কাছে দায়িত্ব তুলে দেয়। বাফুফে কর্মকর্তাদের ভাবছেন দলের ইনজুরি বা অন্যান্য সমস্যার পরও খেলোয়াড়রা যেন ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামেন। কিন্তু কোচ যেভাবে কথা বলছেন তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের ট্রফি জয়ের আশা করাটা বেশি বাড়াবাড়ি। তিনি অবশ্য গতকাল জাতীয় দলের লক্ষ্য হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নইলে ঢাকা থেকে নেপালে এসে ক্রুইফ যেসব বাণী দিচ্ছেন তা কেবলই হতাশার। অন্যদেরকে বড় করে দেখে নিজেদের পিছিয়ে রাখছেন এই ডাচ। ভারত নেপালকে বড় করে দেখছেন। যেখানে দেশ দুটি বাংলাদেশকে ফেভারিট মনে করছে। এমনকি অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গনেশ থাপাও কাল বললেন বাংলাদেশ ফাইনাল খেলতে পারে। তিনিও চাইছেন বাংলাদেশের সাথে নেপাল ফাইনাল খেলুক। নেপালের সাংবাদিকরাও বাংলাদেশ দলের উপর নজর রাখছেন। কিন্তু ক্রুইফই কেন যেন মানসিকভাবে পিছিয়ে। এটা তার কৌশল কিনা বুঝা যাচ্ছে না। তবে তিনি আগেই বলে দিয়েছেন গত সাফে সপ্তম হয়েছে বাংলাদেশ। এখন একবারে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাস্তববাদী নয়। জুলাইয়ে দায়িত্ব নেয়া এই কোচ বলেন, ‘এতো স্বল্প সময়ের মধ্যে চ্যাম্পিয়নশিপ আশা করা ঠিক না।’ বাস্তবতা ভাবতে বলছেন তিনি। ইনজুরির কারণে বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত বিরামহীন অনুশীলন খেলোয়াড়দের ইনজুরিতে পড়ার বড় কারণ। অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম প্রথম ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারবেন কিনা নিশ্চিত না। গতকাল সকালে স্থানীয় পুলিশ হেড কোয়ার্টার মাঠে অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমকে কোচ মামুনুলের অবস্থাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেছেন। ক্রুইফ এও জানান যে একশ’ ভাগ ফিট না হলে অধিনায়ককে মাঠে নামাবেন না তিনি। কোচের কথায় ইঙ্গিত আছে পুরো ফিট না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো ম্যাচেই খেলাবেন না। মামুনুল জানিয়েছেন তিনি ৮০ ভাগ সুস্থ। রানিং করছেন, কাজেই সেরে উঠবেন। কোচ জানান- ‘পুরো সেরে উঠতে হবে। আগে খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’ মামুনুল ইসলাম যদি মাঠে নামতে না পারেন তাহলে মাঝমাঠ দুর্বল হয়ে পড়বে। শনিবার স্বাগতিক নেপালের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের সাফ অভিযান শুরু হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব পূর্ণ ম্যাচ। এই ম্যাচের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ক্রুইফ দাবি করেন, ইনজুরির কারণে তার সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। তারপরও এই দল নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান। গোলকিপারদের উন্নতি হওয়ায় তিনি খুশি বলে জানিয়েছেন। এসবের বাইরে শেষ পর্যন্ত একটা লক্ষ্যের কথা জানিয়ে ক্রুইফ বলেন তার লক্ষ্য সেমিফাইনাল। তবে সেটা নির্ভর করছে দলীয় পারফরম্যান্সের উপর। সব কিছু নির্ভর করছে প্রথম ম্যাচের উপর।