ইউএস ওপেন
চ্যাম্পিয়নের মতোই শুরু মারের
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৩, ২২:০৩
ইউএস ওপেনের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডি মারে দারুণ এক জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছেন। মারের পাশাপাশি পুরুষ এককে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন ষষ্ঠ বাছাই হুয়ান দেল পোত্রো ও নবম বাছাই স্তানিস্লাস ওয়াওরিঙ্কা। অন্যদিকে মহিলা এককে ভেনাস উইলিয়ামসের বিদায়ের দিনে তৃতীয় রাউন্ডে পা রেখেছেন পোল্যান্ডের অগনিয়েস্কা রাদওয়ানস্কা ও চীনের লি না।
ইউএস ওপেনের গত আসরে ব্রিটিশদের দীর্ঘ ৭৬ বছরের গ্র্যান্ড স্ল্যাম খরা ঘোচে মারের সৌজন্যে। বলা বাহুল্য এটি ছিল মারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। আর টুর্নামেন্টের চলতি আসরেই মারে প্রথমবারের মতো কোর্টে নামলেন শিরোপাধারী হিসেবে। আর সেই চাপকে উড়িয়ে দিয়ে মারের শুরুটা হলো ফেভারিটের মতোই।
ফ্লাশিং মিডোতে প্রথম রাউন্ডে ফ্রান্সের অবাছাই মাইকেল লড্রার বাধা টপকাতে এই স্কটিশ সময় নেন মাত্র এক ঘণ্টা ২৬ মিনিট। প্রথম সেটে ৬-২ গেমে জয়ের পর ৬-৪ এবং ৬-৩ গেমে তিনি জিতে নেন পরের দুটি সেটও। সহজ এই জয়ের পর প্রতিপক্ষ নয় বরং মারের অসন্তুষ্টি ছিল আবহাওয়ার উপর! উইম্বল্ডন শিরোপাধারী মারে বলেন, ‘এমন আবহাওয়া খুবই বিরক্তিকর। বৃষ্টি হয়-তো হয়ই না। তাই এমন আবহাওয়ায় খেলাটা দারুণ কষ্টকর। তারপরও ভালোভাবে খেলাটা শেষ করতে পেরেছি। পরের রাউন্ডগুলোতেও ভালো খেলার আশা করছি।’
অন্যদিকে এই ইউএস ওপেনেই ২০০৯ সালে একমাত্র গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ পাওয়া দেল পোত্রোর প্রতিপক্ষ ছিলেন স্পেনের গুইলারমো গার্সিয়া লোপেজ। ফলে পুরো ম্যাচটি নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে ৪ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। ম্যাচের স্কোর ছিল ৬-৩, ৬-৭ (৫/৭), ৬-৪ ও ৭-৬ (৯/৭)। বোঝাই যাচ্ছে হারার আগে অবাছাই স্প্যানিশ যথেষ্টই ভুগিয়েছেন তার আর্জেন্টাইন প্রতিপক্ষকে।
চার সেটে পোত্রো জিতলেও, তিন সেটেই ম্যাচটি নিজের করে ফেলেন সুইস তারকা ওয়াওরিঙ্কা। অবাছাই চেক প্রজাতন্ত্রের রাদেক স্টেপানেককে হারের স্বাদ দেন তিনি। প্রথম সেট টাইব্রেকারে গড়ালেও, শেষ দুই সেট সহজেই জিতে নেন ওয়ারিঙ্কা। ৭-৬ (৭-২) গেমে প্রথম সেট জিতে ম্যাচে লিড নেন তিনি। এরপর শেষ দুই সেট ৬-৩ ও ৬-২ গেমে জিতে নেন ওয়ারিঙ্কা।
এদিকে ৬-৩ গেমে প্রথম সেটটি জিতে নিয়ে শুরুতেই ভেনাসকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৫৬ তম অবস্থানে থাকা ঝেই ঝেং। তবে ৬-২ গেমে পরের সেটটি জিতে নিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান ভেনাস। এরপর ফল নির্ধারণী তৃতীয় সেটে ৭-৬ (৭/৫) গেমে জয় তুলে নিয়ে শেষ হাসি হাসেন ৩০ বছর বয়সী ঝেংই।
দারুণ এই জয়ের পর ভেনাসের প্রতি সমবেদনাই ঝরলো এই চীনার কণ্ঠে, ‘তার জন্য আমার খারাপই লাগছে। তবে আমি আমার স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চেয়েছি। আর সেটা করতে পেরে আমি যখন জিতলাম তখন নিশ্চিতভাবেই আমার ভাল লাগছে। এখন লক্ষ্য আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।’ ভেনাস না পারলেও জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তৃতীয় এবং পঞ্চম বাছাই রাদওয়ানস্কা ও লি না। সরাসরি সেটেই প্রতিপক্ষদের হারিয়েছেন তারা। বাসস/ওয়েবসাইট।