চেলসির বিরুদ্ধে বায়ার্নের প্রতিশোধ পালা আজ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী বায়ার্ন মিউনিখ ও ইউরোপা লিগের শিরোপাধারী চেলসি আজ শুক্রবার যখন প্রাগে ইউরোপীয়ান সুপার কাপে মুখোমুখি হবে সেসময় দল দুটির পাশাপাশি আরো কিছু বিষয়ের ফয়সালা হবে। বায়ার্ন এখনো মনে করে এক বছর আগে তাদেরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা উচিত ছিল। কিন্তু সেবার পেনাল্টি শুটআউটে তাদের হারিয়ে দিয়েছিল চেলসি। তাও আবার জার্মান ক্লাবটিকে তাদেরই মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারিনায় হারিয়ে। চেলসি সে দলটির ম্যানেজার রবার্তো ডি ম্যাত্তিও এবার আর ইংলিশ ক্লাবটিতে নেই। ওই সাড়া জাগানো জয়ের কয়েক মাস পরই তিনি বরখাস্ত হয়েছিলেন। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কোচ রাফা বেনিতেজ গেল মৌসুমে চেলসিকে ইউরোপা কাপ জিতিয়ে অন্তত কিছুটা হলেও মান রাখেন। তারপর নতুন মৌসুমে এলেন পর্তুগীজ কোচ হোসে মরিনহো। অপরদিকে বায়ার্নের দায়িত্ব নিলেন বার্সেলোনা খ্যাত পেপ গার্দিওলা। মরিনহো ও গার্দিওলা দু’জনেই স্পেনে পরস্পরের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দায়িত্বে থাকাকালে এক ধরনের ব্যক্তিগত দ্বৈরথের জন্ম দেন। স্পানিশ লিগে গার্দিওলা অবশ্য মরিনহোকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং পর্তুগীজ কোচ শেষ পর্যন্ত মাদ্রিদে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। এখন দলগতভাবে জার্মানি ও ইংল্যান্ডের ক্লাব দু’টির পাশাপাশি দুই কোচের পুরনো লড়াইয়েরও পুনরাবৃত্তি হবে। তাছাড়া বায়ার্ন চাইবে পুরনো হারের শোধ নিতে। এসবের বাইরে গার্দিওলা ও মরিনহো উভয়কেই ট্রফি জয়ের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে হবে। দু’জনের এ লড়াইয়ের নতুন সূচনা হবে আজকের সুপার কাপ জয় দিয়ে। গার্দিওলা এদিন জিতলে মৌসুমের শুরুতেই বায়ার্ন কোচ হিসেবে এক অনন্য উচ্চতায় উঠবেন। এর কারণ ব্যাভারিয়ান ক্লাবটির আগের কোচরা ইতোপূর্বে তিনবার চেষ্টা করেও সুপার কাপ জিততে পারেননি। মরিনহোও আগে কখনো সুপার কাপ জেতেননি। তবে চেলসি এ রাতে সফল হলে এটি হবে তাদের দ্বিতীয়বারের মতো সুপারকাপ জয়। তাদের আগের সাফল্যটি ছিল ১৯৯৮ সালের। এদিকে খেলাটিকে ঘিরে কথার লড়াই শুরু হয়েছে। মরিনহো যেমন আগের সাফল্যের প্রতি ইঙ্গিত করে জানালেন চাপ যদি কিছু থাকে তবে সেটা গার্দিওলার উপরই। এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো চেলসির দায়িত্ব নেয়া বাকপটু পর্তুগীজটি বললেন,‘জাপ হেইঙ্কসের দলটি গত মৌসুমে ছিল ইউরোপের সবচাইতে শক্তিশালী দল। এ মৌসুমে সে দলটিতো আছেই, তার সাথে যোগ হয়েছে আরো তিন নতুন খেলোয়াড়। এদের প্রত্যেকেই ভাল, তাছাড়া আছেন একজন নতুন ম্যানেজার যিনিও কিনা ভাল। স্বাভাবিকভাবে এ মৌসুমেও তাদের আগের চাইতে শ্রেয়তর হওয়ার কথা।’ আবার বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ের আগের হারটির শোধ নেবেন বলে হুংকার দিয়েছেন। ন্যুয়ের বলেন,‘আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য এই ট্রফিটি জয়ে এটা হলো দারুণ এক সুযোগ। এটা ফাইনাল এবং এমন একটা ম্যাচ যা হবে ইউরোপা লিগ জয়ীদের বিরুদ্ধে। তার ওপর আবার দলটি হলো চেলসির। তাদের সাথে আমাদের এখনো কিছু বিষয় মেটানোর আছে। সেটা শোধ নেয়ার ব্যাপার। কাজেই আমি আশাবাদী প্রাগে আমরা জিততে পারবো।’ গার্দিওলা বায়ার্নে আসার পর দলের কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন। ফলে দলটির ইউরোপ সেরা রক্ষণাত্মক মধ্যমাঠের দুই কুশীলব বাস্তিয়ান সোয়েনস্টেইগার ও জাভি মার্টিনেজের জুটিটি নেই। পরিবর্তিত কৌশলে বাস্তিয়ান এককভাবেই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এর ফলে কখনো কখনো মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যে ফাটল দেখা যাচ্ছে। এরপরও বায়ার্ন লিগের প্রথম চার খেলা থেকে ১০ পয়েন্ট পেলেও গার্দিওলার অধীনে নতুন কৌশলে (৪-১-৪-১) পুরোপুরি চোখ জুড়ানো খেলা উপহার দিতে পারছে না। সত্য বটে এই কৌশলের কারণে বায়ার্ন কয়েকটি খেলায় ৭৫ ভাগ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল। বাস্তিয়ান অবশ্য গেল মঙ্গলবার লিগের খেলায় ফ্রেইবুর্গের সাথে দলের ১-১ ড্রয়ে ইনজুরির কবলে পড়েন। তার ওপর প্লেমেকার থিয়াগো অ্যালকানতারাও ইনজুরিতে। তাই আজ বায়ার্নের মাঝমাঠে মধ্যমণি হিসেবে দেখা যেতে পারে মারিও গোয়েটজ ও টনি ক্রুসকে। দুই উইংয়ে থাকবেন আর্জেন রোবেন ও ফ্রাংক রিবেরি। মরিনহো ইতোমধ্যে ৪-২-৩-১ বিন্যাসে চেলসিকে খেলাচ্ছেন। এর ফলে নিজের স্ট্রাইকারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে পারছেন তিনি। কখনো ফার্নান্দো টোরেস, কখনো ডেম্বা বে এমনকি জার্মানির উঠতি তারকা আন্ড্রে শুরলেকে দেখা যাচ্ছে সামনে।