আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হোন

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান মোতাবেক অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে দেশের জনসাধারণকে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে আবারো দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি উন্নয়ন চান, শান্তি চান, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দূর করতে চান তাহলে আওয়ামী লীগের পতাকা তলে সমবেত হন।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ফেলাগাজী দীঘির সিএন্ডবি মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী। প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার এবং আওয়ামী লীগের একমাত্র লক্ষ্য জনগণের সেবা করা। আর অন্যদিকে বিএনপি ক্ষমতায় আসে লুটপাট করার জন্য। কোকোর দুর্নীতির টাকা ফেরত আনা প্রসঙ্গে বিএনপির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিদেশিরা এসে এ মামলার সাক্ষী দিয়েছে সেখানে এ অর্থ ফেরত আনার বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলা হয় কিভাবে। বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের আমলে ৫ হাজার ৭৩৬টি নির্বাচনে ৬৩ হাজার ৯০৪ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ নির্বাচনের স্বচ্ছতার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে তাদের শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নিশ্চয়তায় আবারো নৌকায় ভোট দিয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ দানের আহবান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের ক্ষমতায় আসার অর্থ হলো দুর্নীতি, হত্যা ও জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটা। দুর্নীতি ও মানুষ খুন এ দুটি গুণই তাদের আছে। জনসভায় আরো বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের উদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইসহাক মিয়া, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, জাসদ নেতা মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি, আবুল কাশেম মাস্টার এমপি, চট্টগ্রাম মহানগরী আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী প্রমুখ। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়িতে অবতরণ করে জনসভাস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি গত ১১ এপ্রিল ভুজপুরে আওয়ামী লীগের হরতাল বিরোধী শোভাযাত্রায় নারকীয় হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি ফটিকছড়িতে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলো হচ্ছে চট্টগ্রামের হালিশহরে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার খাদ্যগুদাম, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৭তলা বহির্বিভাগ ভবন, একই হাসপাতালের পাঁচতলা বিশিষ্ট নবনির্মিত ডেন্টাল ভবন, কলেজের নতুন প্রশাসনিক ভবন, ৫০ শয্যায় উন্নীত চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৫০ শয্যায় উন্নীত সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লোহাগাড়া উপজেলা ট্রমা সেন্টার এবং ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ। এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ৭তলা বিশিষ্ট নারী হোস্টেল ভবন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’র বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।