পিঁয়াজের ঝাঁজ কমছে

পিঁয়াজের ঝাঁজ কমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের পাইকারী বাজারগুলোতে পিঁয়াজের দাম আরো কমেছে। তবে পাইকারী বাজারে পিঁয়াজের দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে ধীরে। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার নিয়ন্ত্রণে পিঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। প্রতি কেজি পিঁয়াজের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ টাকা। একজন ক্রেতা একসাথে ৫ কেজি পিঁয়াজ কিনতে পারবেন। রাজধানীতে ৩৫টি পয়েন্ট ছাড়াও সারাদেশে বিভাগীয় শহরগুলোতে পিঁয়াজ বিক্রি করা হবে। টিসিবির তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন করির বলেছেন, পিঁয়াজের দাম স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে না আসা পর্যন্ত পিঁয়াজ বিক্রি চলবে। টিসিবি ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, একজন ডিলারকে ৫শ’ কেজি করে পিঁয়াজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চাহিদা থাকলে বরাদ্দ আরো বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতে সংকটের অজুহাতে দেশের বাজারে হঠাত্ করে পিঁয়াজের কেজি ৮০ টাকায় উঠে গেলে বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে ৫ হাজার টন পিঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ভারত থেকে ১শ’ টন পিঁয়াজ আমদানি করেছে টিসিবি। এদিকে রাজধানীর পিঁয়াজের পাইকারী বাজার শ্যামবাজার ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গত এক সপ্তাহের তুলনায় পিঁয়াজের দাম আরো কমেছে। চীন ও মিয়ানমার থেকে পিঁয়াজ আসতে শুরু করায় দাম কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। গতকাল পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজ মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এছাড়া দেশি পিঁয়াজ ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এদিকে পাইকারী বাজারে পিঁয়াজের দাম কমতে থাকলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে খুব ধীরে। গতকাল রাজধানীর শান্তিনগর বাজার ও নিউমার্কেটসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমদানিকৃত পিঁয়াজ মানভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ প্রসঙ্গে শান্তিনগর বাজারের খুচরা পিঁয়াজ ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম বলেন, খুচরা বাজারে এক বস্তা পিঁয়াজ বেচতে কয়েকদিন লাগে। এছাড়া ওজন কম, মাল পচে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে পিঁয়াজের কেনা দামও বেশি পড়ে। যে কারণে খুচরা বাজারে দাম কমতে সময় লাগে।