জয়পুরহাটে প্রচারণায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা
দিলদার হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৬
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জরপুরহাটে প্রচারণায় নেমেছেন বর্তমান দুই এমপিসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। জেলা-উপজেলা সদর তো বটেই, ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যন্ত গণসংযোগসহ সভা-সমাবেশ করছেন তারা।
জেলায় নির্বাচনী আসন সংখ্যা দুটি। জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে জয়পুরহাট-১ এবং আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলা নিয়ে জয়পুরহাট- ২ আসন। এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত দু’টি আসনই বিএনপির দখলে রয়েছে। তবে ৮৬ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে আসন দু’টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন।
বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা
জেলা বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। দলে দু’ গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে দলে আব্দুল আলীম গ্রুপের নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন, এদের অনেকেই এখন নিষ্ক্রিয়। সর্বশেষ ২০১০ সালে জেলায় দলীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ।
গ্রুপিংয়ের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী নয় বলে জানা গেছে। জেলা সভাপতি ও জয়পুরহাট-১ আসনের এমপি মোজাহার আলী প্রধান দলের গ্রুপিংয়ের কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে আব্দুল আলীমের অনুপস্থিতিতে তার গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা। এরা দুজনেই এবারও ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়া ফয়সল আলীম, অধ্যক্ষ সামছুল হক, জামায়াতের জেলা আমীর ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ, দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি ফজলুর রহমান, সাবেক এমপি বর্তমানে এলডিপি নেতা এডভোকেট এ,ই,এম খলিলুর রহমান, আরিফ আহম্মেদ রানা ও সিরাজুল ইসলাম লায়ন বিদ্যুত্ প্রমুখ জেলার বিভিন্ন স্থানে দলীয় সভায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন
প্রত্যাশী যারা
সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচন, জেলার নেতৃত্ব ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগে আভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে দীর্ঘ দিন। সাবেক সংসদ সদস্য আব্বাস আলী মন্ডল গ্রুপ ও জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী আব্দুল আজিজ মোল্লা গ্রুপ এই কোন্দলে জড়িত। যা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিস্তৃতি লাভ করে।
তবে দলে কোন কোন্দল নেই, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে বলে দাবি করলেন আওয়ামী লীগের জেলা সম্পাদক এডভোকেট এস.এম. সোলায়মান আলী। এদিকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, দল ক্ষমতায় থাকায় দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রমে চেয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি অধিক মনোযোগী।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জেলার দুটি আসনই নিজেদের দখলে নেয়ার জন্য নানা কৌশল করছে। গত বছর ২৪ জানুয়ারি জয়পুরহাট সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাঁচবিবি পৌরসভার সাবেক মেয়র সামছুল আলম দুদুকে জয়পুরহাট-১ আসনের প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দেন। সেই থেকে দুদু এ আসনে জয়ী হওয়ার জন্য গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া জয়পুরহাট-২ আসনে একক প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। ইতিমধ্যে তারা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। বিভিন্ন সভা সমিতিতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।