কী করে এল

পেন্সিল

কিছু কিছু আবিষ্কার যেমন সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হয় বা হারিয়ে যায়, তেমনি এর বিপরীতে কিছু আবিষ্কার তার অবস্থান ধরে রাখে যুগের পর যুগ। আর সভ্যতার এমনই এক আবিষ্কার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে আছে পেন্সিল। গোটা দুনিয়ায় এমন মানুষ খুব কমই আছেন যারা পেন্সিল দেখেননি। পেন্সিল শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ ‘পেন্সিলাস’ থেকে, যার অর্থ ছোট লেজ। পড়ালেখা কিংবা আঁকাআঁকির জন্য ব্যবহূত এই উপকরণটি আবিষ্কারের প্রাথমিক ধারণা মানুষ পেয়েছিল সভ্যতার একেবারে আদিম লগ্নেই। ধারণা করা হয়, মানুষের লেখা বা আঁকার শুরুর সময়টায় যখন মিসরের আদিম গুহাবাসীরা প্রথম কাগজের মতো বস্তুর উপর দাগ কাটতে শিখেছিলেন তখন পেন্সিলের শিসের মতোই কোনো উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও আধুনিক পেন্সিলের যাত্রা শুরু হয় এখন থেকে প্রায় ৫শ বছর আগে। এতে লেখা সৃষ্টির মূল উপাদান ছিল গ্রাফাইট। ১৫৬৫ সালে ইংল্যান্ডে গ্রাফাইট প্রথম আবিষ্কার হয়েছিল বলে জানা যায়। বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাঠ-কয়লা, বালি ও কাঠের গুঁড়ার মিশ্রণ বৈদ্যুতিক চুলায় প্রায় ৪ হাজার ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে গ্রাফাইট তৈরি হয়। ১৯৬২ সালে জার্মানিতে গ্রাফাইট পাউডারের সঙ্গে সালফার ও অ্যান্টিমনি মিশ্রিত করে পেন্সিলের শিস আবিষ্কৃত হয়। ১৮১২ সালে আমেরিকার আলমারি নির্মাতা উইলিয়াম মানরো কাঠের খাপে শিস ঢুকিয়ে কাঠপেন্সিল তৈরি করেন। তিনি এটাকে আরও উন্নত করে ১৮২১ সালে বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু করেছিলেন। বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে শিস তৈরির জন্য গ্রাফাইট পাউডারের সঙ্গে কাদামাটি মিশিয়ে উত্তপ্ত করা হয়। সিংহল, সাইবেরিয়া, আমেরিকা ও ইতালিতে প্রচুর পরিমাণে গ্রাফাইট পাওয়া যায়। অন্যদিকে ১৮৫৮ সালের ৩০ মার্চ হাইমেন লিপম্যান পেন্সিলের লেখা মোছার জন্য পেন্সিলের এক মাথায় একটি ধাতব খাঁজের মাঝে ইরেজার বা রাবার সংযুক্ত পেন্সিল তৈরির স্বীকৃতি পান।