আবার ঢাকায় তারার মেলা!

বাংলাদেশ টেস্ট স্টাটাস পাওয়ার অনেক আগে থেকেই ঢাকার ক্রিকেটে বিশ্বকাঁপানো তারকাদের মেলা বসতো। ওয়াসিম আকরাম, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অজয় জাদেজা, অরুনলাল, নীল ফেয়ারব্রাদার, হিথ স্ট্রিক, গাস লগি, ইলিংওয়ার্থ, দিলীপ মেন্ডিস থেকে শুরু করে রমেশ কালুভিতারানা; একসময় ঢাকার ক্রিকেট মাতিয়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত খেকে আসা তারকারাই। কিন্তু গত ক বছর ধরে সেই আন্তর্জাতিক তারকাদের আলো একটু করে এসেছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। কয়েক জন পাকিস্তানি তারকা ছাড়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বলার মতো তারকাদের দেখা মিলতো না। অবশেষে এ বছর নানা সংকটে পড়েই হয়তো আবার বিদেশি তারকাদের আলোর ঝলকানি দেখবে ঢাকা মহানগর প্রিমিয়ার লিগ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার প্রিমিয়ার লিগে যুবরাজ সিং, কুমার সাঙ্গাকারা, তিলকরত্নে দিলশান, উপল থারাঙ্গা, জীবন মেন্ডিস, চার্লস কভেন্ট্রি, এলটন চিগুম্বুরার মতো তারকাদের দেখা যেতে পারে। ঢাকা লিগের গত কয়েক বছরের চেনা মুখ, পাকিস্তানী তারকা মোহাম্মদ ইউসুফ, শোয়েব মালিক, রানা নাভিদ-উল হাসানের সঙ্গে ক্লাবগুলো জোরদার যোগাযোগ রেখেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত না যে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এদের বাংলাদেশে খেলার অনুমতি দেবে কি না। এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এই তারকার মেলা বসলে, সেটা হবে আসলে একটা সমস্যার ‘বাই প্রোডাক্ট’! এ বছরের নতুন নিয়ম লটারির ফেরে পড়ে ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’ থেকে অনেক টাকাওয়ালা দলও মনমতো তারকা কিনতে পারেনি। কিন্তু দল হিসেবে তাদের চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা চাই। আর এই চাওয়া থেকে এই অদ্ভুত দল বদলের পর থেকেই প্রিমিয়ারের দলগুলো নজর দিয়েছে বিদেশি খেলোয়াড়দের দিকে। বেশ শক্ত দল করেও এই কথাটাই বলছিলেন প্রাইম দোলেশ্বরের সাধারণ সম্পাদক মোশতাক হোসেন, ‘এবার প্রায় সব দলের দেশি সংগ্রহ খুব কাছাকাছি শক্তির হয়েছে। ফলে বিদেশি খেলোয়াড় যে যতো ভালো আনতে পারবে, তারাই এগিয়ে যাবে।’ বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের নিয়ম হচ্ছে—সর্বোচ্চ ১০ জন বিদেশি রেজিস্ট্রেশন করানো যাবে, একাদশে খেলতে পারবেন সর্বোচ্চ ৩ বিদেশি। এই পুরো কোটাটা কাজে লাগাতে চায় বড় দলগুলো। গত বৃহস্পতিবার দল পরিচিতির সংবাদ সম্মেলনে দেশি খেলোয়াড়দের সবচেয়ে চকচকে সংগ্রহ করা শেখ জামাল জানিয়ে দিল, তারা ইতিমধ্যে কয়েকজন বড় তারকা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন। মুশফিক, রাজ্জাকদের সঙ্গে এবার শেখ জামালের হয়ে কমপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবেন সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক ও ইনফর্ম তারকা সাঙ্গাকারা। এ ছাড়া জিম্বাবুয়ের এলটন চিগুম্বুরা, চার্লস কভেন্ট্রি এবং শ্রীলঙ্কান দিলশান মুনাবিরাও খেলছেন দলটিতে। তামিম ইকবালকে দলে ভিড়িয়ে এমনিতেই শক্তিশালী দল গড়ে ফেলা ব্রাদার্স ইউনিয়নও বিদেশি সংগ্রহে চমক দেখানোর চেষ্টা করছে। দলটির ক্রিকেট ব্যবস্থাপক আমিন খান বললেন, ‘ভারতীয় কয়েক জন তারকা থাকবে বলে আশা করছি। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের ফিকশ্চারটা চূড়ান্তভাবে হাতে পাওয়া জরুরি। কারণ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ২৫ সেপ্টেম্বরের পর আর কাউকে বাইরে খেলতে দেবে না। এর আগে যতোগুলো ম্যাচ হবে ওরা খেলে যাবে। এর বাইরে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার অন্তত তিনজন তারকা থাকবে।’ আমিন খান পরিষ্কার কারো নাম বলতে না চাইলেও এটুকু জানা গেল যে ব্রাদার্স ইতিমধ্যে ভারতীয় তারকা যুবরাজ সিংয়ের খেলা অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে। তাদের আলোচনা চলছে রানা নাভিদ ও মোহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গেও। মোহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে সাবেক মোহামেডান-ভিক্টোরিয়া ও বর্তমান গাজী ট্যাংক কর্মকর্তা লুত্ফর রহমান বাদলের সুসম্পর্কও সুবিদিত। সে সূত্রে তিনিও ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন বলে জানা গেল। বাদল আরও জানালেন, ‘আমরা যুবরাজ সিং ও শোয়েব মালিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করছি। কিন্তু পাকিস্তান কী আদৌ খেলোয়াড় দেবে?’ একই প্রশ্নের কারণে সিসিএস, খেলাঘরের মতো ক্লাবগুলো পড়েছে সমস্যায়। তারাও পাকিস্তান থেকে ক্রিকেটার পাবেন কি না, বুঝতে না পেরে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। এই দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং অবশ্য পুরোপুরি ভারতীয় খেলোয়াড়দের দিকে ঝুঁকেছে। দলটির কর্মকর্তা শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর বললেন, ‘আমরা কারো নাম বলবো না। কারণ নাম বললে সেই খেলোয়াড়কে নিয়ে রশি টানাটানি হয়। তবে বড় তারকারা থাকবে দলে।’ এর বাইরে মোহামেডান শ্রীলঙ্কার উপল থারাঙ্গাকে এবং প্রাইম ব্যাংক একই দেশের জীবন মেন্ডিসকে নিশ্চিত করেছে বলেও জানা গেল। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রাইম ব্যাংকের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বললেন, ‘অনেকের সঙ্গেই কথা চলছে আমাদের। তবে চূড়ান্ত কেউ নয়। এর মধ্যে জীবন মেন্ডিসকে অনেকটা নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায়।’