ঝিনাইদহে চরমপন্থি নেতাদের লাশ পড়ছে মাঠে ঘাটে

ঝিনাইদহে হঠাত্ হঠাত্ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে চরমপন্থি দলের নেতা, ক্যাডার ও সন্ত্রাসীরা। তারপর তাদের গলাকাটা বা গুলিবিদ্ধ লাশ মিলছে মাঠে-ঘাটে। একের পর এক চরমপন্থি নেতা ক্যাডার খুন হচ্ছে। এভাবে চার মাসে খুন হয়েছে ১০ জন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লবিপুর গ্রামের মাঠে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির দুই শীর্ষ কমান্ডার উজ্জল হোসেন ও আসাদুল ইসলামকে ১৭ জুলাই হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল বলে পুলিশ জানায়। তাদের বাড়ি সদর উপজেলার হাজিডাঙ্গা গ্রামে। খুন হওয়ার ৪-৫ দিন আগে থেকে তারা নিখোঁজ ছিল। এর কয়েক দিন পর ৪ আগস্ট রাতে কাশিমনগর গ্রামের পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ কমান্ডার লিটন খুন হন। তাকে সুতি দুর্গাপুর গ্রামের মাঠে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৪ জুলাই রাতে সদর উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামের শহিদুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে শহিদুল চরমপন্থি দলের সাথে জড়িত ছিল। ২৫ জুন হরিণাকুন্ডু উপজেলার জুগিহুদা গ্রামের ইলিয়াস হোসেনকে অপহরণের পর জবাই করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ৩ মে রাতে হরিণাকুন্ডু উপজেলার দোলখালীর মাঠে শাহাবুল ওরফে সাবুকে গলা কেটে হত্যা করে তার প্রতিপক্ষরা। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার নওলামারি গ্রামে। নিহত হওয়ার আগে সে ৩-৪ দিন নিখোঁজ ছিল। ২৮ মে রাতে ফারুক হোসেন ওরফে বোমা ফারুক নামে এক শীর্ষ চরমপন্থি ক্যাডার খুন হন হরিণাকুন্ডু উপজেলার নওতলা গ্রামের মাঠে। তাকেও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার খয়েরতলা গ্রামে। খুন হওয়ার ২-৩ দিন আগে তাকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। ২০ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মফিজুল ইসলাম মফি খুন হন। চাঁদেরপোল গ্রামের মাঠে তার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। সে চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (জনযুদ্ধ)’র আঞ্চলিক কমান্ডের দায়িত্ব পালন করছিল। এর আগে ২৮ এপ্রিল ঝিনাইদহ শহরের সন্ত্রাসী ইউসুফ খুন হয়। তাকে ১৮ এপ্রিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় কে বা কারা। ২৯ এপ্রিল সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের একটি খালের পাড়ে তার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আলামপুর গ্রামে একটি মরিচ ক্ষেতে পাওয়া যায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ চরমপন্থি ক্যাডার মঞ্জের আলির লাশ। পুলিশ রেকর্ড ঘেঁটে জানতে পারে তার বিরুদ্ধে এক সাথে ৫ খুনসহ ৩টি হত্যা মামলা রয়েছে। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এ সব নিহত চরমপন্থিদের ব্যাপারে তদন্ত করে দেখা গেছে তারা হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলার আসামি। নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রতিপক্ষ দলের হাতে পূর্ব শত্রুতার জন্য খুন হয়েছে।