সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেল তিন নারী ও দুই প্রতিষ্ঠান

সিটিগ্রুপের অঙ্গসংগঠন সিটি ফাউন্ডেশন ও ক্রেডিট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) আয়োজিত অষ্টম সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেয়েছেন তিন নারী ও দুটি ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান। এবারে শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে কিশোরগঞ্জের রাবেয়া বেগম, শ্রেষ্ঠ কৃষি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে টাঙ্গাইলের নাজমা বেগম ও শ্রেষ্ঠ মহিলা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে ঝিনাইদহের মহেশপুরের সাহিদা বেগম পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রংপুরের আরডিআরসি বাংলাদেশ ও শ্রেষ্ঠ সৃজনশীল ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে টাঙ্গাইলের সোসাইটি ফর সোসাল সার্ভিস (এসএসএস) পুরস্কার পেয়েছে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও চেক তুলে দেয়া হয়। সৃজনশীল ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ছয় লাখ টাকা, শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ কৃষি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও শ্রেষ্ঠ মহিলা উদ্যোক্তা প্রত্যেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অষ্টম সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারপারসন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এছাড়া সিটি এশিয়া প্যাসিফিক এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন বার্ড, সিডিএফের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুল আওয়াল এবং সিটি ব্যাংক এনএ’র কান্ট্রি অফিসার রাশেদ মাকসুদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, জাতীয় পর্যায়ে ম্যাক্রো অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণের প্রভাব বিষয়ে খানিকটা অস্পষ্টতা থাকলেও ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থান যে বেড়েছে সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এ শ্রমঘন খাতে বর্তমানে দেড় লক্ষ লোক কর্মরত রয়েছেন। এতে আরো অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে ব্যাংক ও এমএফআইগুলো তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমআরএ’র সনদপ্রাপ্ত এমএফআই, গ্রামীণ ব্যাংক ও সরকারি অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প বা সংস্থার সুবিধাভোগীর সংখ্যা এখন সাড়ে তিন কোটি, ঋণস্থিতি ২৯ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকা। এ খাতের ঋণ গ্রহণ করে প্রায় ২১ লক্ষ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তায় উন্নীত হয়েছেন। আজকের পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারাও এভাবে তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ক্ষুদ্রঋণ বাংলাদেশের অন্যতম বড় খাত। ভারতসহ পার্শ্ববর্তীদেশগুলো যখন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে তখন ক্ষুদ্র ঋণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা রয়েছে। এর মধ্যে ওভারল্যাপস (একই ব্যক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ বাদ দিলেও প্রায় দুই কোটি ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা রয়েছে। যে সংখ্যা অনেক বড়। ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা তাদের ঋণের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই উত্পাদনশীল খাতে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, ঋণ গ্রহীতাদের আট থেকে ১০ শতাংশ গ্রহীতা সার্বক্ষণিক ঋণগ্রহীতায় পরিণত হয়েছে। তারা এখন শুধু নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাই করেনি পাশাপাশি একেক জন গড়ে আরো চার থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে।