এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয়পত্র প্রতিবেদন ও সংবাদ

প্রতিবেদন রচনার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থী সাধারণত যে ভুল করে থাকে, তা হলো তারা সংবাদ এবং প্রতিবেদনকে এক করে ফেলে । সংবাদ এবং প্রতিবেদন কখনও এক নয় । উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক : ‘ক’ সরকারি কলেজে বিবাদমান দুইদল ছাত্রের মাঝে সংঘর্ষে দুইজন ছাত্র নিহত হয় । আহত হয় অন্তত পক্ষে ২০ জন । আহতদের ‘খ’ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । তাদের মধ্যে ০৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক । থানায় মামলা হয়েছে । পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ০৫ জনকে আটক করেছে । ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এটি একটি সংবাদ যা পরবর্তীদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হতে পারে । এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন । তারা ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সে বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেবেন । আর এই কমিটি যে report প্রদান করবেন সেটিই হচ্ছে মূলত প্রতিদেন । অর্থাত্ একটি সার্থক প্রতিবেদনের ০৬ টি অংশ হতে পারে । প্রতিবেদনের শুরুতে সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন পরিচিতি থাকবে । দ্বিতীয় প্যারাতে কল্পিত একটা স্মারক নম্বর ব্যাবহার করা যেতে পারে এবং প্রতিবেদন রচনার কারণ ব্যাখ্যা করা যেতে পারে ।। তৃতীয় প্যারাতে ঘটনার বিবরণ থাকবে । চতুর্থ প্যারাতে ঘটনার কারণ উল্লেখ থাকবে । পঞ্চম প্যারাতে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ থাকবে । ষষ্ঠ প্যারাতে প্রতিবেদক কী কী উপাত্ত ব্যাবহার করেছেন সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি থাকবে , অর্থাত্ তথ্যসূত্র যুক্ত থাকবে । এই ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদন রচনা করা গেলে একজন পরীক্ষক পরীক্ষার্থীকে ভালো নম্বর প্রদানে বাধ্য হবেন । পরীক্ষার উত্তরপত্রে একজন পরীক্ষক এ ধরনের প্রতিবেদন আশা করে থাকেন । নমুনা প্রতিবেদন :০১ প্রশ্ন : তোমার কলেজ গ্রন্থাগারের উপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর । উত্তর : প্রতিবেদনের শিরোনাম : ‘ক’ সরকারি কলেজ গ্রন্থাগার সরেজমিন তদন্তের স্থান : ‘ক’ সরকারি কলেজ প্রতিবেদন তৈরীর সময় ও তারিখ : সকাল —১০ টা , আগস্ট ২৮, ২০১৩ প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানা : স , ২য় বর্ষ — বিজ্ঞান বিভাগ ‘ক’ সরকারি কলেজ । জনাব, অধ্যক্ষ, ‘ক’ সরকারি কলেজ , আমি স্বেচ্ছায় প্রণোদিত হয়ে আমাদের কলেজ গ্রন্থাগারের উপর ভিত্তি করে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিম্নে উপস্থাপন করলাম । ‘ক’ সরকারি কলেজ গ্রন্থাগারের বেহালদশা ‘ক’ জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ক’ সরকারি কলেজ ইতোমধ্যে সর্বজনস্বীকৃতি লাভে সক্ষম হয়েছে । এ প্রতিষ্ঠানে ভালো পড়ালেখার বাইরে এর বিশেষত্ব ছিল একটি সমৃদ্ধ কলেজ গ্রন্থাগার । যার ফলে পাঠক হাজার বছর অতীতের সঙ্গে এক সেতুবন্ধন রচনায় সক্ষম হয়েছে । আমাদের অনেক সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দও এ গ্রন্থাগার নিয়মিত ব্যবহার করে আসছেন । কিন্তু কিছু অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কলেজ গ্রন্থাগারটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে । এ অনুসন্ধান চলাকালে আমাদের কলেজ গ্রন্থাগারে যে সকল সমস্যার দিক ফুটে উঠেছে , তা নিম্নে তুলে ধরা হল: * গ্রন্থাগারে আসন সংখ্যা খুবই সীমিত । * এক সঙ্গে ২০—২৫ জন বসে পড়ালেখার সুযোগ নেই । * শিক্ষার্থী অনুপাতে সহায়ক গ্রন্থের পরিমাণ কম । * নতুন সংস্করণের বই নেই বললে চলে । * সংগৃহিত বইসমূহ বিজ্ঞানভিত্তিক ক্যাটালগ পদ্ধতিতে সাজানো নেই । ফলে কাঙ্ক্ষিত বই খুঁজে পেতে সমস্যা হয় । একজন অদক্ষ সহকারি গ্রন্থাগারিক দিয়ে যেনতেনভাবে গ্রন্থাগারটি পরিচালনা করা হচ্ছে । গ্রন্থাগারটি অধ্যক্ষ মহোদয়ের পাশের কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় যখন তখন ব্যবহার করাও সম্ভব হয়না। গ্রন্থাগার থেকে কোন বই বাড়িতে নেয়ার সুযোগ নেই ্। কলেজ ছুটির পর গ্রন্থাগারটিও বন্ধ হয়ে যায় । অতিরিক্ত সময় পড়ার সুযোগ থাকেনা । গ্রন্থাগারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই এবং কক্ষে যথেষ্ঠ আলোক স্বল্পতা রয়েছে । এসকল সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে আমাদের কলেজ গ্রন্থাগারটিকে তার হারানো ঐতিহ্যের ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব । এ ছাড়াও আরো যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা নিম্নে তুলে ধরা হল : গ্রন্থাগারের জন্যে আলাদা ভবন নির্মাণ করতে হবে । শিক্ষার্থী অনুপাতে সহায়ক গ্রন্থের সংখ্যা বাড়াতে হবে । নতুন নতুন সংস্করণের বই সংগ্রহ করতে হবে । সংগৃহিত বইসমূহ বিজ্ঞানভিত্তিক ক্যাটালগ পদ্ধতিতে সাজিয়ে নিতে হবে, যাতে অতি সহজে খুঁজে পাওয়া যায় । এক জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ গ্রন্থাগারিক নিয়োগ করতে হবে। গ্রন্থাগার থেকে বই বিতরণের উদ্যোগ নিতে হবে । ক্লাশ ছুটির পরও গ্রন্থাগারে পড়ার সুযোগ দিতে হবে । পাঠকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে । গ্রন্থাগারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে । তবেই আমাদের কলেজ গ্রন্থাগারটি তার আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে । *তথ্যসূত্র : ১.ছাত্র—ছাত্রীদের সাক্ষাত্কার ২.সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলির মতামত গ্রহণ ৩. সহকারী গ্রন্থাগারিকের সাক্ষাত্কার ৪.নিজস্ব অভিজ্ঞতা