গল্প নয় সত্যি

রসিকতার জের!

নাম তার স্কিলার বিলি এন্ডারসন। পেশায় জেলে। তিনি ও তার সহযাত্রী অন্যান্য জেলেরা মিলে প্রায়শই মাছের সন্ধানে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালের ফলমাউথ সংলগ্ন সাগরে। নানা সময়ে মাছও যে মন্দ পান তাও নয়। তবে এই মাছ ধরতে যেয়ে মাছের বদলে যদি একদিন দেখা মেলে গোল্ডবার বা স্বর্ণ পিন্ডের তাহলে সেটা নিশ্চয়ই ভাগ্য বদলে দেয়ার মতোই একটি ঘটনা। কিন্তু কল্পনা করতে ভালো লাগলেও বাস্তব তো আর হররোজ অতটা রূপকথার গল্পের মতো ধরা দেয় না। কাজেই কিছুদিন আগে ফলমাউথের প্রায় ১৬ মাইল দূরে মাছ ধরতে যেয়ে যখন জালে উঠে এলো পুরোনো কতগুলো ব্রাস ব্র্যাকেট (দেয়ালের সঙ্গে তাক লাগানোর জন্য ব্যবহূত ধাতব ফ্রেম) তখন সেটাকে সোনার বার ভেবে বেশ একচোট হাসাহাসি হয়েছিল বিলি আর তার বন্ধুদের মাঝে। কিন্তু এই হাসি-তামাশা এখানেই শেষ না হয়ে মোড় নিল ভিন্নদিকে। সবাইকে চমকে দেওয়ার জন্য নিজের ফেসবুকে এটিকেই সত্যিকারের সোনার বার হিসেবে দাবি করে বসলেন বিলি। গোল্ডবার সদৃশ ব্রাস ব্র্যাকেটগুলোর ছবিও সেই সাথে পোস্ট করলেন নিজের প্রোফাইলে, সব মিলিয়ে যার সত্যিকার মূল্য হতে পারত দেড় মিলিয়ন পাউন্ড। এদিকে নিজের এই রসিকতার ফাঁদে ধরা পড়বার জন্য ইতিহাসের পটভূমিটাও যে প্রস্তুত ছিল তা হয়তো তখনও জানতেন না বিলি। আজ থেকে বহু বছর আগে ১৯৮৩ সালে আলোচিত ব্রিঙ্ক’স ম্যাট ডাকাতির পর একদল ডাকাত হিথ্রোর একটি ওয়্যারহাউস থেকে প্রায় ২৬ মিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদ লুট করেছিল। আর লুটের পর সেটি ফলমাউথেরই আশপাশে সাগরে ফেলে গিয়েছিল বলেই জোর গুজব চালু আছে। কাজেই একান ওকান হয়ে বিলির এই গোল্ডবার পাওয়ার এই রসিকতাটি যখন কানে যায় স্থানীয় পুলিশের তখন তারাও বেশ তত্পর হয়ে ওঠেন। আর সাত-পাঁচ না জেনে রসিকতা করা বিলিকে তীরে ফেরার পর আবিষ্কার করতে হয় তাদের মাছ ধরার ট্রলার ঘিরে রাখা একদল পুলিশকে। অবশেষে ব্যাপক তল্লাশী আর জেরার পর সত্যটা বুঝতে পারার পরই পুলিশের হাত থেকে রেহাই মেলে বিলি ও তার সঙ্গী অন্য জেলেদের।