চেলসিকে হারিয়ে শোধ নিল বায়ার্ন

কোচ পেপ গার্দিওলা বায়ার্ন মিউনিখ দুই দফায় পিছিয়ে পড়েও চেলসিকে পেনাল্টি শুটআউটে (৫-৪) হারিয়ে কেবল উয়েফা সুপার কাপই জেতেনি, শোধ নিয়েছে ১৫ মাস আগে মিউনিখে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের হারটিরও। চেলসিকে অবশ্য শেষ ৪০ মিনিট দশজন নিয়ে খেলতে হয়েছিল। গার্দিওলা বার্সেলোনা ছেড়ে বায়ার্নে যোগ দেয়ার পর কোচ হিসেবে এটি তার প্রথম ট্রফি সাফল্য। চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে গত শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী বায়ার্ন ও ইউরোপা কাপের শিরোপাধারী চেলসির মধ্যকার উয়েফা সুপার কাপের এ খেলাটিতে ভাগ্য জার্মানদের আনুকূল্য দেয়। ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এই পেনাল্টি ভাগ্যই বঞ্চিত করেছিল বায়ার্নকে। ইডেন হ্যাজার্ড ৯০ মিনিটের খেলাটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে গোল করে চেলসিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাপ্রবাহ অন্তিম মুহূর্তের আগ পর্যন্ত ইংলিশ ক্লাবটির দিকেই ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল দ্বিতীয় দফায় চেলসির দায়িত্ব নেয়া হোসে মরিনহোই জিততে যাচ্ছেন উয়েফার সুপার কাপটি। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় হলুদ কার্ড পেয়ে ব্রাজিলীয় র্যামিরেসের বহিষ্কৃত হবার পর চেলসি যে ঘাটতিতে পড়ে তারই সুযোগ নিয়ে শেষ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় জাভি মার্টিনেজ খেলাটিতে (২-২) সাম্যতা এনে টেনে নিয়ে যান পেনাল্টি শুটআউটে। প্রথম নয়টি পেনাল্টি জাল খুঁজে নেবার পর চেলসির হয়ে শট নিতে এসে বদলি খেলোয়াড় রোমেলু লুকাকু দেখেন বিপক্ষ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ের তার শটটি রুখে দিয়েছেন। তাতে প্রথম সুপার কাপ জয় থেকে বঞ্চিত হন মরিনহো। তিনি অবশ্য হারের জন্য রেফারিকে দোষারোপ করেছেন। দুইদলের পাশাপাশি এটা ছিল স্পানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচদ্বয়েরও লড়াই যাতে জয় হলো গার্দিওলার। স্প্যানিশ গার্দিওলাকে নিয়ে এ পর্যন্ত তিনজন কোচ দুটি ভিন্ন ক্লাবকে সুপার কাপ জেতালেন। দু’জনের ব্যক্তিগত দ্বৈরথেও মরিনহো পিছিয়ে। কেননা এর আগের ১৫টি খেলাতেই পর্তুগীজ কোচটির জয় ছিল কেবল তিনটি। চেলসি অবশ্য অধিকাংশ সময়ে কোনঠাসা থাকলেও অষ্টম মিনিটে ফার্নান্দো তোরেসের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। তবে ফ্রাংক রিবেরি ৪৭ মিনিটে সমতা এনে দেন জার্মানদের। র্যামিরেস লাল কার্ড পান ৮৫ মিনিটে। এরপর খেলাটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ইডেন হ্যাজার্ডের গোলে আবারো এগিয়ে যায় চেলসি। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মার্টিনেজ সমতা ফেরান। নিজের দেশের মাটিতে গোলরক্ষক পিটার চেকের দুর্দান্ত নৈপুণ্য না হলে চেলসি হয়তো আরো আগেই হেরে বসতো। তবে বলের নিয়ন্ত্রণ বায়ার্নের দখলে থাকলেও পাল্টা আক্রমণে মরিনহোর দলটি মাঝে মাঝেই ভয়ংকর হয়ে উঠছিল। তারপরও শেষ হাসি হাসে ন্যুয়েরের দল যিনি খেলার আগেই বলেছিলেন প্রতিশোধ পালার কথা। মরিনহো অবশ্য বিরল এক জয়ের কাছাকাছি এসেও তা করায়াত্ত করতে না পারার পর স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘তারা কাপটি নিয়ে গেছে। তবে সেরা দলই হেরেছে। আমি মনে করি আমরাই সেরা দল ছিলাম।’ অপরদিকে রিবেরি বলেন, ‘দল এবং কোচের জন্য আমি খুবই খুশি। মরিনহোর সাথে তার কিংবদন্তিতুল্য দ্বৈরথের কারণে এটা ছিল খুবই বিশেষ একটা দিন। আজ আমরা ভাগ্যবান ছিলাম। আমি মনে করি এ জয় আমাদের সাহায্য করবে এবং গতিময়তা এনে দেবে।’