গৃহবধূ নূরুন্নাহার কৃষি পরামর্শদাতা
স্বপন কুমার কুণ্ডু, ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৪
চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রাম্য বধূ নূরুন্নাহার এখন রীতিমত একজন সমাজ উন্নয়ন কর্মীর দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠা তাকে এনে দিয়েছে একজন সফল নারী উদ্যোক্তার স্বীকৃতি। বসতবাড়ির আশপাশে নিবিড় সবজি চাষ করে এলাকাবাসীকে তিনি রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এনসিডিপি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভানেত্রী নুরুন্নাহারের স্বামী রবিউল ইসলাম বিশ্বাস একজন ধানচালের ব্যবসায়ী।
নুরুন্নাহার জানান, স্বামী কাজে বেরিয়ে গেলে অলস বসে থাকা তার ভালো লাগতো না। ২০০৫ সালে টেলিভিশনে একটি অনুষ্ঠানে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে তারও ইচ্ছে জাগে বসতবাড়ির আশপাশে শাক-সবজি ও ফলমূলের বাগান গড়ে তোলার। এরপর লালশাক, পুঁইশাক, বেগুন, গোল আলু, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ বাড়ির আঙ্গিনায় চাষ করেন। সারা বছরের সবজির চাহিদা মিটে যাওয়ার পর বাড়তি কিছু আয়ও হয়। এসময় ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজন নুরুন্নাহারের এলাকায় ব্র্যাক এনসিডিপি’র মহিলা গ্রাম কমিটি গঠনের পর তাকে দায়িত্ব দিয়ে যান। এতে স্বামীর আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বরে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বসতবাড়ির আঙ্গিনায় এবং বাড়ি সংলগ্ন ৫ বিঘা জমিতে ফুলকপি, বাধাকপি, ওলকপি, গাজর ইত্যাদি ফসলের আবাদ করে আশাতীতভাবে লাভবান হন।
সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে তিনি ঈশ্বরদীর সিটি গ্রুপ জাতীয় পুরস্কার পান। এতে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা, সার্টিফিকেট এবং একটি ২৪ ইঞ্চি রঙ্গিন টেলিভিশন পুরস্কার তাকে দেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন অনেকেই নুরুন্নাহারের কাছে কৃষি কাজের পরামর্শ নিতে ছুটে আসেন। ইতিমধ্যেই গ্রামের ২শ’ নারীকে হাতে কলমে কৃষি কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কৃষক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ২০১১ সালে দেশের সেরা নারী কৃষক হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক অর্জন করেছেন। নুরুন্নাহারের সুখ্যাতি এখন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে।