সন্ধ্যা-কীর্তনখোলার গর্ভে বরিশালের বিস্তীর্ণ জনপদ ও স্থাপনা বিলীন
বরিশাল অফিস ও বানারীপাড়া সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৭
নগর সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরের চরকাউয়ায় আকস্মিক ভাঙ্গনে ২০ মিটার সড়কসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে আরো ২শ’ মিটার সড়কসহ চরকাউয়া বাসস্ট্যান্ডের বহু স্থাপনা। এদিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বরিশাল-ভোলা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কীর্তনখোলা নদীর উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দারা গতকাল শনিবার চরকাউয়া ফেরিঘাটে মানববন্ধন করেছে।
সরেজমিনে গতকাল গিয়ে জানা যায়, চরকাউয়া জামে মসজিদ, ভুলু মিয়ার টেইলার্স, শাহীনের পেট্রোলের দোকান, বীনা ফার্মেসি, চানমিয়া মেকানিক্যাল, বাবুলের পানের দোকান, মিঠুর মুদির দোকান, হাবিব ও হেলালের ঘরসহ প্রায় ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ১০টি ঘর কীর্তনখোলার গর্ভে হারিয়ে গেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, গভীর রাতে ভাঙ্গন আরো তীব্র আকার ধারণ করায় ফেরিঘাট হুমকির মুখে পড়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাসস্ট্যান্ডে ভারি যানবাহন পার্কিং ও চলাচল করায় আকস্মিক এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
এদিকে চলতি বর্ষা মৌসুমে সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে বানারীপাড়ার কাজলাহার, ব্রাহ্মণকাঠি, জম্বদ্বীপ, উত্তরনাজিরপুর, শিয়ালকাঠি, দান্ডয়াট, কালিবাজার, মসজিদবাড়ি, চাউলকাঠি, ঝিরারকাঠি,উজিরপুরের মিরেরহাট, বড়াকোঠা, সাকরাল, নারিকেলী, মালিকান্দা, লস্করপুর, চাউলাহার ও দাসেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী গ্রাস করে ফেলেছে ওই সব এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভিটেমাটি, ফসলী জমি ও সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। নদী ভাঙ্গনের কারণে গত তিন মাসে বেশ কয়েকবার বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিমপাড়ের শিয়ালকাঠি গ্রামে ফেরিঘাট স্থানান্তর করতে হয়েছে। এদিকে উজিরপুর-সাতলা সড়ক যে কোন সময় নদী গ্রাস করে ফেলতে পারে। ওই সড়কটি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে উপজেলা সদরের সঙ্গে ৬টি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এছাড়া একই কারণে ২০১১ সালের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী ভাঙ্গন রোধ প্রকল্প ভেস্তে গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ও শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: জেলা সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় নদী ভাঙ্গনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ডুবে গেছে সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির আলম জানান, এই ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে ৫শ পরিবার ভিটেমাটি সব হারিয়ে অন্যত্র মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে আড়াই হাজার পরিবার। নারায়ণপুর আলিয়া মাদ্রাসা ও নারায়ণপুর ঘোনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই ইউনিয়নে ২ হাজার হেক্টর উঠতি আউস ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অপর দিকে আলাতুলি ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনে ৫৩৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, এই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে নদী ভাঙ্গনে ৭০টি পরিবার সহায় সম্বল হারিয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে নিশিপাড়া, কটাপাড়া, দশরশিয়া বাজার, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ১ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আউস ধানের উপর নির্ভরশীল ২ হাজার পরিবার হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি উচ্চ বিদ্যালয় পানিতে ডুবে যাওয়ায় লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, চলতি বন্যায় ৭ হাজার ৪৭১ হেক্টর উঠতি আউস ধানসহ সবজি ক্ষতি হয়েছে।
মাওয়া ঘাটে আকস্মিক নদী ভাঙ্গন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মাওয়া পুরাতন ফেরি ঘাটে আকস্মিক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। একটি মসজিদ ও ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৬০ ফুট এলাকা পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে বিআইডব্লিউটিসির ভাসমান ওয়ার্কশপ। লোকজন দোকান ঘর সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। হঠাত্ ভূ-কম্পনের কারণে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছে।
বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া অফিসের ম্যানেজার সিরাজুল হক জানান, মাওয়া ঘাট এলাকায় হঠাত্ গতকাল শনিবার সন্ধ্যার আগে ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এরপরই মাওয়া পুরাতন ৩ নং রো রো ফেরি ঘাট ও ২ নং ফেরি ঘাট এলাকায় দ্রুত নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। এছাড়া ৩ নং ঘাট সংলগ্ন মসজিদটিও নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে পড়া বিআইডব্লিউটিসির ভাসমান ওয়ার্কশপ সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।