আইনি জটিলতায় আটকা পুলিশের এসআই নিয়োগ

সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ সময়ে পুলিশের এসআই নিয়োগ আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। ফলে এসব পদে পরীক্ষা দেয়া প্রায় পাঁচ হাজার প্রার্থীর চাকরির ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রার্থীসহ অভিভাবকরাও উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করছেন সহসাই জটিলতা কাটিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের নিয়োগ দেয়া হবে। সূত্র জানায়, পুলিশের এসআই পদটি যেহেতু দ্বিতীয় শ্রেণীর তাই এর নিয়োগ-পদোন্নতি ও শৃংখলার বিষয়টি সরকারি কর্মকমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতে এ বিষয়ে পিএসসির কোনো মতামত নেয়া হয়নি। নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষে এখন বিষয়টির প্রতি নজর দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত জানতে চাওয়া হয়। সমপ্রতি আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, পিএসসির অনাপত্তি নিয়ে নিয়োগ দেয়া সম্ভব। তবে শৃংখলা ও পদোন্নতির বিষয়ে পিএসসির সম্পৃক্ততা রক্ষা করতে হবে। এতে অবশ্য পুলিশ সদর দপ্তর আপত্তি করছে। প্রসঙ্গত, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও গুরুদণ্ডের ক্ষেত্রে পিএসসির মতামত প্রয়োজন হয়। ১৯৮৩ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী এটি প্রযোজ্য। অপরদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শৃংখলা ও পদোন্নতির বিষয়টি পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। শৃঙ্খলার বিষয়টি অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা হলে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃংখলা সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাছাড়া পদোন্নতিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কাজের মধ্যে পড়ে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী পদ ভেদে এ কাজ পুলিশ সদর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করে থাকে। গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ খবরে জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখা থেকে পাঠানো সারসংক্ষেপ আইন মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আলোচ্য মতামত দিয়ে ফেরত দেয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা বলছেন, জটিলতা খুব শিগগির কেটে যাবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিজেই তত্পর রয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরও তাদের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেড় হাজারের বেশি পদে এসআই নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয় গত বছরের জুন মাসে। সে বছরের ২৭ জুন প্রথম প্রার্থীদের শারীরিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই বছরের ১৩ থেকে ১৫ জুলাই তিন দিন ধরে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রায় পাঁচ হাজার প্রার্থী। এদের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর মিলিয়ে ফলাফল তৈরির কাজ শেষ হলেও তা ঘোষণায় এখন বিলম্ব হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের বর্তমান মেয়াদ শেষ হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। তাই নিয়োগ-পদোন্নতি ও শৃংখলা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে নতুন প্রক্রিয়া শুরু হবে আজ রবিবার থেকে। শৃংখলা ও পদোন্নতির বিষয়টি বাদ রেখে শুধুমাত্র নিয়োগের জন্য আলাদা সারসংক্ষেপ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আগে তিনটি বিষয় একই সারসংক্ষেপে পাঠানোতে দুটি বিষয় বাদ রেখে একটি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। সূত্র বলছে, নিয়োগের বিষয়ে আলাদা মতামত পাওয়া গেলেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এবার দেরি হওয়ায় চূড়ান্তভাবে নিয়োগকৃতদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময়কাল এক বছর থেকে কমিয়ে ছয়মাস করা হচ্ছে।