মিরপুরে যুবলীগ নেতা, রামপুরায় গার্ড খুন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২৩:২১
রাজধানীতে পৃথক দুইটি ঘটনায় একজন যুবলীগ নেতাসহ দুইজন খুন হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে মিরপুর এলাকায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে ৯২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ পশ্চিম ইউনিটের সহ-সভাপতি শাহ আলী রকিকে (৩৫)। পুলিশ জানিয়েছে, গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে রকির ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত পুলিশ যুবলীগের দুই কর্মীকে আটক করেছে। তবে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করেনি।
অপরদিকে শুক্রবার রাতে রামপুরা এলাকায় নিহত হন নৈশ প্রহরী (গার্ড) আবুল কালাম (৬৫)। তাস খেলা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কয়েক যুবক তাকে মারধর করলে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। নৈশ প্রহরী খুনের ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে যুবলীগ নেতা রকি বাসা থেকে বের হয়ে রূপনগর ৭ নম্বর সড়কের শেষ মাথায় একটি হোটেলে যান। এ সময় তার কয়েকজন বন্ধু তাকে হোটেল থেকে ডেকে নিয়ে কনকর্ড গার্মেন্টসের গলিতে নিয়ে যায় (স্থানীয় সালাউদ্দিন রবিনের ক্লাবের সামনে)। সেখানে আগে থেকে অবস্থানকারী ৫/৬ জন যুবক তাকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত মোটর সাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী সজল ও সাগর তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকাল পৌনে এগারটার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে যুবলীগ কর্মী সাগর বলেন, গত ১৯ জুলাই বরিশাল থেকে পল্লবী এলাকার সন্ত্রাসী মাহথিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ঐ রাতে পুলিশের ক্রসফায়ারে মাহথির নিহত হন। মাহথির পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় রকির হাত রয়েছে বলে তার সহযোগীরা সন্দেহ করতো। এছাড়া রাজনীতির পাশাপাশি রকি পল্লবী ও রূপনগর এলাকার গার্মেন্ট ঝুট ব্যবসা করতো। এ নিয়ে তার কয়েক বন্ধুর সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এরজন্য পরিকল্পিতভাবে রকিকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পারিবারিকসূত্র জানায়, মিরপুর-পল্লবী এলাকার সন্ত্রাসী নাজু গ্রুপ ও মনির গ্রুপের সাথে ঝুট ব্যবসা ও রাজনীতি নিয়ে রকির বিরোধ ছিল। ঝুট ব্যবসা নিয়ে নাজু গ্রুপের সুন্না-মুন্নার সঙ্গে কয়েকদিন আগে রকির শ্বশুর দুলালের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মুন্না দুলালের গলায় কাটা চামচ দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনা নিয়ে তাদের সঙ্গে রকির বিরোধ শুরু হয়। রকির শ্বশুর দুলালকে আহত করার দুইদিন পরই স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। সর্বশেষ ঝুট ব্যবসা নিয়ে সুন্না ও মুন্নার সঙ্গে বিরোধে জড়ালে নাজু ও মনির গ্রুপ একত্রিত হয়ে রকিকে হত্যা করেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে পূর্বপরিচিতরাই রকিকে হত্যা করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে।
এক সন্তানের জনক শাহ আলী রকি পল্লবী মিল্কভিটা রোডের (৭ নম্বর রোড, রূপনগর) ৮৩৫ বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তার পিতা মতিউর রহমান খোকন স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা থানায়।
রামপুরায় নৈশ প্রহরী খুন ঃ রামপুরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জুলহাস জানান, আবুল কালাম রামপুরা বনশ্রীর সি ব্লকের ১ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়ির নৈশ প্রহরী।
রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, নৈশ প্রহরী খুনের ঘটনায় ঐ বাসার কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান