সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়

সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ ক্ষমতার পিস্তল দিয়ে গুলি করে সিআইডি’র সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খানকে হত্যা করা হয়েছে। ময়না তদন্ত করার সময় তার মাথা ও শরীরের আরো দুইটি স্থান থেকে ৩টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই গুলি তিনটি সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগ পরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে, ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ ক্ষমতার পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে। এদিকে এই খুনের ঘটনায় তার গাড়ি চালকসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার গাড়ি চালক লিটনসহ রামপুরার কয়েকজন ছিঁচকে সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ ক্ষমতার পিস্তল সাধারণত ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে পেশাদার কিলাররা ব্যবহার করে। রামপুরা এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের হাতেও এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। গোয়েন্দাসূত্র জানায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে নিহতের ভাতিজা রুবেল ও শান্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া শুক্রবার বাসায় এসে ফজলুল করিমের স্ত্রী আফরোজা করিম খান স্বপ্না, শ্যালক তৌহিদুল কাশেম খান প্রিন্স ও ভাগ্নিদের সঙ্গে কথা বলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গাড়ি চালক লিটন ঘটনার দিন থেকেই ডিবি হেফাজতে রয়েছে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কথায় অসংলগ্নতা রয়েছে। তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গোয়েন্দাসূত্র আরও জানায়, রামপুরা এলাকার সেলিম ও রাসেল নামে দুই যুবককে গত শুক্রবার আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পশ্চিম রামপুরা এলাকার মাদক বেচাকেনার অনেক তথ্য তাদের কাছে আছে। নিহত ফজলুল করিম খানের শ্যালক তৌহিদ কাশেম খান প্রিন্স বলেন, শুক্রবার গোয়েন্দা পুলিশ বাসায় এসে তাকেসহ তার আপা (স্বপ্না) ও ভাগ্নির কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নেয়া হয়েছে। তার আপার কাছ থেকে ঘটনার সময়ের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গ্রামের বাড়িতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভাতিজা রুবেল ও শান্তকে শনিবার সকালে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রামপুরা থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানান, ফজলুল করিমের পারিবারিক ও পেশাগত বিষয়কে সামনে রেখে তিনি তদন্ত করছেন। এছাড়া স্থানীয় মাদক সংক্রান্ত বিষয়কেও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এজন্য শনিবার বিকালে তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছুই বলা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রামপুরার ওয়াপদা রোডে ৭৫/২ নম্বর ‘স্বপ্নপুরী’ নামক নিজ বাড়িতে ফজলুল করিমের স্ত্রী ও দুই গৃহপরিচারিকাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে সিআইডি’র সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খানকে। ঘটনার পর শুক্রবার রাতে নিহতের জামাতা ব্যারিস্টার মকিম উদ্দিন খানজাহান আলী বাদী হয়ে রামপুরা থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়।