মেহেরপুরে বড় দুই দলেই রয়েছে কোন্দল

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মেহেরপুরের দুটি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আগামী নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা এবার মেহেরপুরের দুটি আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি ভোট যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে দুই দলেই রয়েছে কোন্দল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূতিকাগার দেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর খ্যাত ঐতিহাসিক জেলা মেহেরপুর। এ জেলার জাতীয় সংসদ আসন সংখ্যা-২। উপজেলার সংখ্যা ৩টি। মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলা মিলে মেহেরপুর-১ আসন এবং গাংনী উপজেলাটি মেহেরপুর-২ আসন। ঐতিহাসিক জেলা হিসাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুরের দুটি আসনেই আওয়ামী লীগের জয়লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। এ দিকে মেহেরপুর জেলা বিএনপির নেতা কর্মীরা মনে করেন মেহেরপুর বিএনপির ঘাঁটি। তাই দুটি আসনেই জয়লাভ করবে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমানে মেহেরপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হাজী জয়নাল আবেদিনের একটি গ্রুপ। আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট মিয়াজান আলি। গাংনীর সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের একটি গ্রুপ। অপরদিকে গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের একটি গ্রুপ রয়েছে। এদিকে জেলা বিএনপি মধ্যে ২টি গ্রুপে বিভক্ত রয়েছেন। একটি গ্রুপে রয়েছে বিএনপির সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুন। অপর গ্রুপে রয়েছে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইলিয়াস আলি । উভয় গ্রুপ নিজ নিজ অবস্থানে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা বিএনপির মধ্যে যে দল আগে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলতে পারবে সে দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মেহেরপুর ও গাংনীতে সব দল সব গ্রুপ নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে মিটিং মিছিল পথসভা, জনসংযোগ করছেন। মেহেরপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা হলেন জেলা সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য হাজী জয়নাল আবেদিন, জেলা সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট মিয়াজান আলি, সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান, সদর উপজেলা সভাপতি হাজী গোলাম রসুল, এডভোকেট আবদুস সালাম, এডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম এবং মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ছহিউদ্দিনের পুত্র ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী-স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন দুদুল। একই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশিরা হলেন মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুন, জেলা জাতীয়তাবাদী তৃণমূল দলের আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) সামসুল ইসলাম সামস, আনসারুল ইসলাম, ও ইলিয়াস হোসেন। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি জেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সভাপতি আব্দুল হামিদ, জামায়াতে ইসলামী থেকে ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির তাজউদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি আব্দুল হান্নান। মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে ৭ জন আর বিএনপিতে ৩ জন মনোনয়ন চাইতে পারেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস বাকি থাকলেও সরকারি দলের কয়েক জন নেতা জোরে সোরে গণসংযোগ শুরু করেছেন। এদিকে বিএনপির তিন জন মনোনয়ন প্রত্যাশি কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে থাকলেও স্থানীয়ভাবে মতবিনিময় ও গণসংযোগে পিছিয়ে নেই তারা। এদিকে বড় দুটি দলে অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকার কারণে নেতা কর্মীরাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসন থেকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমানে মেহেরপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন ও গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহারবাটি ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু। একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রর্থীরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম শফিকুল আলম, পৌর মেয়র আহমেদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মকলেচুর রহমান মুকুল, গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহিদুজ্জমান খোকন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন।