জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার বিজ্ঞান
জ্যোতি ভূষন বিশ্বাস, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ. ঢাকা
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩৭
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়:অষ্টম (রাসায়নিক বিক্রিয়া)
১। নিচের বিক্রিয়াটি লক্ষ্য কর:
Zn+H2So4 = ZnSo4+H2
উক্ত সমীকরণের আলোকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক) অ্যানোড কি? ১
খ) তড়িত্ বিশ্লেষ্য ও তড়িত্ অবিশ্লেষ্য পদার্থের মূল পার্থক্য উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর। ২
গ) রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর ঘটে — উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ৩
ঘ) উক্ত এসিডে কস্টিক সোড়া যোগ করলে কি পরিবর্তন ঘটত? বিশ্লেষণ কর। ৪
উত্তর: (ক) তড়িত্ বিশ্লেষণের সময় যে তড়িত্ দ্বারা জারণ সংঘটিত হয়, তাকে অ্যানোড বলে।
খ) তড়িত্ বিশ্লেষ্য ও তড়িত্ অবিশ্লেষ্য পদার্থের মধ্যে পার্থক্য—
তড়িত্ বিশ্লেষ্য:
যে সকল যৌগে বিগলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তাদের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন দ্বারা তড়িত্ বহন করে এবং রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে তাদের তড়িত্ বিশ্লেষ্য বলে। যেমন— Nacl বিগলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় ধনাত্মক আয়ন Na+ ও ঋণাত্মক আয়ন cl– দ্বারা তড়িত্ বহন করে এবং রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে নিম্নরূপে—
2 Na+ + 2e– –––ন্ 2Na
2 Cl– + 2e– –––ন্ cl2
তড়িত্ অবিশ্লেষ্য:
যেসব যৌগ দ্রবণে বা বিগলিত অবস্থায় তড়িত্ পরিবহন করে না তাদের তড়িত্ অবিশ্লেষ্য বলে। যেমন— গ্লুকোজ দ্রবণে তড়িত্ পরিবহন করে না।
গ) অণুতে পরমাণুসমূহের রাসায়নিক শক্তির মাধ্যমে যুক্ত থাকে। রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় এ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। যেমন— মোমের দহনের সময় রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি উত্পন্ন হয়। গ্যাসের চুলায় গ্যাস জ্বালালে গ্যাসে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি পরিবর্তিত হয়ে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি ও আলোকশক্তি উত্পন্ন করে শুষ্ক কোষের মাধ্যমে বাল্ব জ্বালালেও রাসায়নিক শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। উপরের সব রূপান্তর বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। তাই বলায় যায় রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর ঘটে।
ঘ) মিলি সালফিউরিক এসিডের সাথে কস্টিক সোডা তথা সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যোগ করলে নিম্নরূপ বিক্রিয়াটি ঘটবে যা রাসায়নিক পরিবর্তন নামে পরিচিত।
NaOH + H2So4 = Na2So4 + H2O
এ ক্ষেত্রে তীব্র ক্ষার সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড-এর সাথে সালফিউরিক এসিড যোগ করলে তীব্র বিক্রিয়ার মাধ্যমে সোডিয়াম সালফেট (Na2So4) ও পানি (H2O) উত্পন্ন করে। এটি একটি বিক্রিয়া যাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। প্রশমন বিক্রিয়া তখনই বলা যায় যখন অ্যাসিডের সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উত্পন্ন হয়।
২। চুনাপাথরকে তাপ দিলে ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড উত্পন্ন হয় এবং এটি একটি বিক্রিয়া সংগঠিত করে।
ক) লাইম ওয়াটার কি? ১
খ) উদ্দীপকে বিক্রিয়াটি কোন ধরনের এবং কেন? ২
গ) সংযোজন, বিয়োজন ও প্রশমন বিক্রিয়া আলোচনা কর। ৩
ঘ) চুনের পানি ঘোলা হয়ে যাওয়ার পরীক্ষাটি সংক্ষেপে বর্ণনা কর। ৪
উত্তর: ক) লাইম ওয়াটার: পানিতে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড-এর সম্পৃক্ত দ্রবণকেই লাইম ওয়াটার বলা হয়।
খ) উদ্দীপকে বিক্রিয়াটি বিয়োজন বিক্রিয়া। উল্লিখিত বিক্রিয়াটিতে তাপ দিলে চুনাপাথর ভেঙে গিয়ে দু’টি নতুন যৌগ ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড উত্পন্ন করেছে। কাজেই এটি একটি বিয়োজন বিক্রিয়া।