ব্যর্থতারও প্রয়োজন দেখেন সোহাগ
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৯
পরণে টি-শার্ট, জিন্স, এক হাতে মোবাইল, অন্য হাতে বিসিবির একটা সাদা খাম; দূর থেকে দেখে সোহাগ গাজীকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরুণ কোনো কর্মকর্তা বলে মনে হচ্ছিল! না, এখনই কর্মকর্তা হওয়ার কোনো বাসনা থাকার কথা নয় এই তরুণ অফস্পিনারের। কাল এমন আটপৌরে পোশাকে বিসিবিতে এসেছিলেন সোহাগ বিপিএলের পাওনা নিতে। যদিও এক ভুল বোঝাবুঝিতে নিজের পাওনার চেয়ে অনেক কম টাকা হাতে পেলেন। তারপরও টাকা নয়, চিন্তা জুড়ে তার আগামীকাল থেকে খুলনায় শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের ম্যাচ।
এই তিন দিনের ম্যাচটা এক মাসের পরের নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য আদৌ কতোটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে তর্ক চলতে পারে। কিন্তু সোহাগ বলছেন, এই ম্যাচটা আসলেই তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেটীয় দিক থেকেই ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করলেন, ‘সেই জিম্বাবুয়ে থেকে আসার পর আমরা আর লাল বলে খেলিনি। ফলে লংগার ভার্সন ম্যাচ খেলাটা জরুরি ছিল। আর এরকম বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ সবসময়ই অনুশীলনের জন্য খুব ভালো।’
লাল বলে না খেললেও সোহাগের নিজের ম্যাচ খেলার ঘাটতি তেমন হচ্ছে না। জিম্বাবুয়ে সফর থেকে ফিরে কন্ডিশনিং ও স্কিল ক্যাম্প করে ‘এ’ দলের হয়ে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ড সফরে। এই সফরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুদ্রার অন্য পাশটাও প্রথমবারের মতো দেখে এসেছেন সোহাগ। গত বছর নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেকের পর এই প্রথম বল হাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষ্ফল একটা সিরিজ খেলে ফিরলেন; ৭ ম্যাচে পেয়েছেন ৫টি মাত্র উইকেট!
সোহাগ নিজে মলিন বদনে ব্যাপারটি মেনে নিলেন। সেই সঙ্গে বেশ পরিণত খেলোয়াড়ের মতো বলে দিলেন, এটা দরকারও ছিল, ‘হ্যাঁ, খুব খারাপ একটা সফর গেল। এই প্রথম আমি একেবারে কিছুই করতে পারিনি। তবে এটারও দরকার ছিল। খেলছিলাম আর উইকেট পাচ্ছিলাম। বিপরীত চিত্রটা কী হতে পারে, সেটাও বোঝা দরকার ছিল।’
দলের ক্ষেত্রে এবং নিজের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে এই ব্যর্থতার কিছু কারণও সোহাগ আবিষ্কার করেছেন, ‘প্রথমত আমরা কোথাও সেটেল হতে পারিনি। প্রত্যেকটা ম্যাচ খেলতে আলাদা আলাদা শহরে যেতে হয়েছে। আর মানুষ যে বলে, আসলেই ইংল্যান্ড স্পিনারদের জন্য খুব কঠিন একটা জায়গা। ওখানকার কন্ডিশন যেমন, তেমনই ওদের ব্যাটসম্যানরাও টেকনিক্যালি অনেক ভালো। তবে এরপর ইংল্যান্ডে গেলে বা ওরকম পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা একরকম বুঝতে পেরেছি।’
এই ইংল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতা, আসছে প্রিমিয়ার লিগে অনেকগুলো ম্যাচ খেলার সুযোগ, আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া অনুশীলন ম্যাচ; এর সবকিছুরই সোহাগ চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চান নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে। দেশের মানুষের মতো তিনিও জানেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জেতার একটা চাপ থাকবে। নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার ঘটনাটা দেখেছিলেন দর্শক হিসেবে। এবার নিজেকে প্রস্তুত করছেন, আরেকটি গৌরবগাঁথায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার জন্য, ‘সুযোগ পেলে আমার যা করণীয় সেরাটাই করবো। ঘরের মাঠে, আমাদের স্পিনারদের একটা বড় ভূমিকা রাখতে হবে। আমি অন্তত সেটা করতে প্রস্তুত।’
সবাই প্রস্তুত থাকলে ফল আসবে না কেন!