গাড়ি চালকের আসনে প্রশিক্ষিত নারী
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৫
মাহফুজা বেগম। বর্তমানে একজন নারী ড্রাইভার। তার পেছনের গল্পটা এমন—‘ঢাকার কেরানীগঞ্জের মেয়ে মাহফুজা। লেখাপড়া ৯ম শ্রেণির বেশি করতে পারেননি। বাবা-মায়ের ইচ্ছায় অল্প বয়সে তাকে বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। কিন্তু সেখানেও ঘটে বিপত্তি। স্বামীর ঘরে গিয়ে বুঝতে পারেন স্বামী মানসিক রোগী। মুরব্বীরা বলেন, স্বামী সুস্থ হয়ে যাবে। সে আশায় মাহফুজাও ধৈর্য ধরে কাটিয়ে দেন কিছুটা সময়। কিন্তু স্বামীর সুস্থ হওয়ার কোন আলামতই মেলেনি। এর মধ্যে জন্ম নেয় একটি কন্যা শিশুর। যার বর্তমান বয়স তিন বছর। অভাবী বাবা-মায়ের ঘরে ফিরে আসতে হয় তাকে। একদিন সুযোগ আসে ব্র্যাকে নারী ড্রাইভার প্রশিক্ষণ নেয়ার। মাকে বুঝিয়ে রাজি করাতে পারলেও বাদসাধেন বাবা। কোনভাবেই মেয়েকে এ ধরনের একটি পেশায় আসতে দিবেন না তিনি। মা ও ব্র্যাকের কর্মীদের সহায়তায় বাবাকে রাজি করিয়ে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে আসেন মাহফুজা। এখন তিনি একজন গর্বিত নারী ড্রাইভার।’
নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার মেয়ে ববিতা রানী দাস। একটি প্রাইভেট গাড়ির চালক হিসেবে আছেন উত্তরায়। নারী ড্রাইভারদের প্রতিবন্ধকতা সম্বন্ধে জানতে চাইলে ববিতা বলেন, ‘রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নামলে কতজনে যে কত কথা কয়, তার ঠিক নাই। তবে এরপরে নারী ড্রাইভার হিসেবে যারা আসবেন তাদের হয়তো আর এতো কথা শুনতে হবে না।’
মাহফুজার মতো ব্র্যাক থেকে এ পর্যন্ত ৭৫ জন নারী ড্রাইভার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮ জন নারীর চাকরি হয়েছে। রবিবার ব্র্যাকের নারী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে ৪র্থ ব্যাচের ১৫ জন প্রশিক্ষণ পাওয়া নারী ড্রাইভারের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রোকেয়া রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সড়ক নিরাপত্তা প্রোগ্রামের পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসাইন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক এন্ড ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের গ্রুপ সিএফও এসএন কৈরী।
রোকেয়া রহমান বলেন, এ কাজের মাধ্যমে নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী এবং তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন, এ নারী ড্রাইভাররা সড়কে যখন নামবেন তখন সড়কের পরিবেশ যেমন বদলাবে, তেমনি দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে।