বিজিএমইএ’র ডাটাবেজ

অধিকাংশ কারখানাই তথ্য জমা দেয়নি, আরো ১৫ দিন সময় বাড়লো

শ্রমিকদের তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেজ) তৈরি করতে ব্যর্থ কারখানাগুলোকে আরো ১৫ দিন সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গত ৩০ আগস্ট এ জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাত্র ২৩৯টি কারখানার শ্রমিকের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এটা তৈরিতে ব্যর্থ কারখানাগুলোর সেবা বন্ধের কঠোর ঘোষণা দিলেও কার্যত কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে আরো ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছি। এই সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কারখানার ইউডি সেবাসহ (শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানিতে বিজিএমইএ’র সনদ) সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না। তিনি জানান, বর্তমানে বিজিএমইএ’র সদস্য প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্তির জন্য মাত্র ২৬২টি কারখানা আবেদন করেছে। অর্থাত্ ৯০ শতাংশের বেশি কারখানার সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিকেএমইএ’র ৯০০ কারখানার সদস্যপদ থাকলেও চালু কারখানার সংখ্যা প্রায় ৬০০। এসব কারখানার তথ্যভাণ্ডার তৈরির কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৬২টি কারখানা তথ্যভাণ্ডারের জন্য শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ২৩৯টি কারখানার প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিকের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। অথচ দেশে বর্তমানে সব মিলিয়ে এ খাতের কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৬ লাখ। গত ২০ মে শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তথ্যভাণ্ডারের কাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। সে অনুযায়ী সংগঠনের সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম সব সদস্যকে তথ্য ও টাকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিটি কারখানাকে শ্রমিকের সংখ্যাভেদে ৭৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা এ জন্য দিতে হচ্ছে। শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, যেহেতু টাকা-পয়সার বিষয়, ছোট কারখানাগুলো এজন্য সময়মত এটি করতে পারেনি। শ্রমিকদের তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজটি করছে বিজিএমইএ। তথ্যভাণ্ডারে শ্রমিকদের নাম, ঠিকানা, বয়স, কর্মস্থল, যোগ্যতা, কাজের পর্যায়, হাতের ডিজিটাল ছাপসহ বেশ কয়েকটি তথ্য থাকবে। এর ফলে যে কোন শ্রমিককে সহজে সনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিজিএমইএ’র একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে এই তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। আর প্রতিটি কারখানার কাছে থাকবে ওই কারখানার শ্রমিকদের তথ্য।