পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের স্বস্তির নিঃশ্বাস

গত এক সপ্তাহে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে অন্তত ৩৪ ঘণ্টা ফেরি-লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় সৃষ্ট যানজটে অগণিত যাত্রীসাধারণ চরম দুর্ভোগ পোহায়। জরুরিভিত্তিতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট বরাবর ডুবোচর অপসারণে ড্রেজিং শুরু ও অর্ধেক বোঝাই নিয়ে ১১টি ফেরি চলাচল করায় যাত্রী সাধারণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। উভয় ঘাটে কয়েকশ ট্রাক পারাপার হওয়ায় যানজট কমেছে। বিআইডব্লিউটিসি’র এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, তিনদিন আগে পাটুরিয়া ঘাট বরাবর ডুবোচরের কারণে রো-রো ফেরি বন্ধ রাখা হয়। ছোট যানবাহন পারাপারের জন্য এ রুটে কে-টাইপ ফেরি চলাচল করে। জরুরিভিত্তিতে ড্রেজিং শুরু করা হয়েছে। কমবোঝাই দিয়ে ৮টি রো-রো ও ৩টি কে-টাইপ ফেরিযোগে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। অপরদিকে, যানবাহন মালিক শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, উভয় ঘাটে ফেরি সংস্থার বুকিং কাউন্টারের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সিরিয়াল দুর্নীতি করে চিহ্নিত দালালচক্র মোটা টাকা ঘুষ নিয়ে যানবাহন পারাপারের টিকেট দিচ্ছে। এদের প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হতে হয়। সংশ্লিষ্টরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। আটকে থাকা ফেরি ৫৬ ঘন্টা পর উদ্ধার গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, দৌলতদিয়ার ডুবোচরে শুক্রবার সকাল থেকে আটকেপড়া ফেরি ‘কেরামত আলী’ ৫৬ ঘন্টা পর রবিবার বিকালে উদ্ধার হয়েছে। ফেরি ‘কেরামত আলী’র মাষ্টার সরোয়ার হোসেন দাবি করেন শুক্রবার দৌলতদিয়া চ্যানেলে ঘাট থেকে কয়েক হাজার ফুট ভাটিতে ডুবোচরে আটকাপড়া ফেরি ‘কেরামত আলী’ রবিবার বিকাল চারটার দিকে নিজেদের প্রচেষ্টায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে বিআইডব্লিউটিসি এবং বিআইডব্লি¬উটিএর আইটি টাগ জাহাজ একত্রে কাজ শুরু করলেও তারা বার বার ব্যর্থ হয়। কর্তৃপক্ষ মাওয়া থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আইটি-৩৯৪-এর সাহায্য নিলে সেটি রবিবার বেলা তিনটার দিকে পৌঁছে ডুবোচরে আটকা পড়ে। পরে টাগবোড টেনে উদ্ধারের পর ফেরিটিকে পাটুরিয়ায় নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৫৬ ঘন্টা ডুবোচরে আটকে থাকায় ইঞ্জিনের পুস জ্যাম হওয়ায় ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মেরামতশেষে সোমবার সকাল থেকে গাড়ি পারাপার শুরু করবে। ‘স্বাভাবিক হচ্ছে ফেরি চলাচল’ গতকাল রবিবার বিআইডব্লিউটিএ’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাভাবিক হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের ফেরি চলাচল। তীব্র সে াতের কারণে এই নৌপথে গত কয়েকদিন ধরে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছিল। তবে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. মোঃ শামছুদ্দোহা খন্দকার গত শুক্রবার পাটুরিয়া বন্দরে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ গ্রহণের যে ঘোষণা দেন, তা বাস্তবায়নে বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ’র বিশেষ টিম। ৪টি ড্রেজার, ৪টি টাগ জাহাজ, দুটি ওয়ার্কবোট, ৫টি মার্কিং বোট, ৪টি ক্রেন বোট, ৩টি স্পিড বোট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি রুটে বর্তমান চ্যানেল সচল রাখা, বিকল্প চ্যানেল তৈরি, নৌ-পথ চিহ্নিতকরণসহ পরিস্থিতি মোকাবেলার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। তীব্র সে াতের কারণে ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থল পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-পথের মূল চ্যানেলে সম্প্রতি হঠাত্ করে সে াতের তীব্রতা বেড়ে যায়। তাছাড়া উত্তর দৌলতদিয়া পয়েন্টে ৪টি গ্রাম নদী-ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় ভাঙ্গন জনিত মাটি, গাছপালা মূল চ্যানেলে এসে জমা হওয়ায় চ্যানেলের গভীরতা আকস্মিকভাবে হ্রাস পায়। বর্তমান চ্যানেল দিয়ে গতকাল দিনে-রাতে স্বাভাবিকভাবেই ফেরি চলাচল করেছে। তীব্র সে াত মোকাবেলা করে ফেরিগুলোর পারাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র টাগ জাহাজের সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে গতকাল দেখা যায়, কিছু পণ্যবাহী ট্রাক অপেক্ষায় রয়েছে। একটি বিকল্প চ্যানেল পাওয়া গেছে। ড্রেজিংসহ চ্যানেলটিকে মার্কা দিয়ে চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। মাওয়ায় পারাপারের অপেক্ষায় ২৫০ ট্রাক মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মাওয়ায় পারাপারের অপেক্ষায় পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ লাইন পড়েছে। দক্ষিণবঙ্গগামী পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলো ওই পথ পরিহার করে এখন মাওয়া দিয়ে চলাচল করায় গতকাল রবিবার মাওয়া ঘাটে প্রায় আড়াইশ ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। মাওয়া চৌরাস্তা থেকে প্রায় ৩ কি.মি. দূরে দোগাছির কাছাকাছি চলে গেছে ট্রাকের এসব সারি।