ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে জামালপুর

জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী এলাকার ৫টি আসনেই নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ঘরে বসে নেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দুই জোটের প্রার্থীরা নানা কর্মসূচি হাতে নিয়ে গাড়ি চড়ে কখনো পায়ে হেঁটে, চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনসম্মুখে উপস্থাপন করছেন নিজেকে। অনেকেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে কিংবা দরিদ্রদের কাছে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন। এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আকর্ষণীয় ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, বিলবোর্ড অন্যের সৌজন্যে নিজের টাকায় তৈরি করে টানিয়েছেন রাস্তার দুই পার্শ্বে, দখলে নিয়েছেন বিদ্যুতের খুঁটি। খুব স্বাভাবিক ভাবে ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ জেলার ৫টি আসনেই মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ পায়। বর্তমানে আসন উদ্ধারে ১৮ দলীয় জোটের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেস আলী মামুন বলেন, সম্পতি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বিজয় হয়েছে, আগামী নির্বাচনে এর বেশ প্রভাব পড়বে। অপর দিকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকি বিল্লাহ বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণবান্ধব সুযোগ্য জনপ্রিয় প্রার্থী ভেবে-চিন্তে দিতে হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সানা বলেন, এ সরকারের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তা সত্ত্বেও বিরোধী দল অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর জবাব দিতে আওয়ামী লীগের তৃর্ণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ভাবে মাঠে নামতে হবে। জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকসিগঞ্জ): এ আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বৃহত্ দুই দলে চরম দলীয় কোন্দল রয়েছে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হারানোর পর থেকে তার জনপ্রিয়তায় অনেকটাই ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে এককালে তার ঘনিষ্ঠ এখন বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় শ্রমিকলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বিদ্যুত্, উপজেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাহউদ্দিন জুলফিকার, নিলিক্ষা ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তাহের তোতা, বকসিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান, আঞ্চলিক শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম তারা মিয়া, উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ডা. শাহজাহান, এছাড়া দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইসতিয়াক হোসেন দিদারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সুযোগ করে দিয়ে প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা সামিউলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অজুহাতে পুলিশী হয়রানী করে জেলহাজতে প্রেরণ করায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নানামুখী সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। এ আসনে মন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বকসিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন, দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থানকারী গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী নূর মোহাম্মদ ছাড়াও রয়েছেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আলহাজ্ব ইসতিয়াক হোসেন দিদার। অপরদিকে এই আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির হেভী ওয়েট প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম এবং গত সংসদ নির্বাচনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী শাহিদা আক্তার রীতা। এ আসনে অপর শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন জাতীয় পাটি (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী এমএ সাত্তার। জামালপুর-০২ (ইসলামপুর) : এ আসনে আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল নেই। বিএপিতে দলীয় কোন্দল রয়েছে। ২০০৮-এর নির্বাচনে এ আসনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল। তিনি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এ সুযোগে পূর্বেই নির্বাচনী মাঠ প্রায় গুছিয়ে নিয়েছেন নিজের মতো করে। এছাড়া রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আলহাজ্ব শাহজাহান আলী মন্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ (বীর উত্তম) এর কন্যা মাহজাবীন খালেদ বেবী। একই পরিবারের অপরজন সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত হাজী রাশেদ মোশারফের বড় ছেলে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সদস্য জাভেদ মোশারফ রূপক। এছাড়া নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিশিষ্ট সমাজসেবক আতিকুর রহমান লুইসের নাম শোনা যাচ্ছে। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব এএসএম আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় জাসাস নেতা মতিউর রহমান ডিজেল। জামালপুর-৩ মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসন: আওয়ামী লীগ একক প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া। বিএনপিতে একাধিক প্রার্থীর কোন্দল চরমে। আসনটি মাদারগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলা নিয়ে গঠিত। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা আজম এমপি একাধারে ৪ বার নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন পৌর মেয়র হাজী দিদার পাশা ও মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। এ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে। এছাড়াও রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রেজাবুদ্দৌল্লাহ চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী-জামালপুর সদরের একাংশ নিয়ে গঠিত): আওয়ামী লীগের সাবেক ছাত্রনেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগ শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তারা, সাবেক ছাত্রনেতা তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হেলাল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আনিছুর রহমান এলিন, হারুন অর রশিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বাদশা এমপি, ডা. মোরাদ হাসান, সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মৌলানা নুরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বিএনপি’র কোন দলীয় কোন্দল নেই। সাবেক মহাসচিব প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুল সালাম তালুকদারের ভাতিজা ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম একক সম্ভাব্য প্রার্থী। জামালপুর-৫ (জামালপুর সদর): এ আসনে আওয়ামী লীগ সুবিধা জনক স্থানে। বিএনপিতে রয়েছে দলীয় কোন্দল। ভূমি মন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এফবিসিসিআই এর পরিচালক রেজাউল করিম রেজনুও মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জামালপুর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, তার দুলাভাই জেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী মো. সিরাজুল হক, কেন্দ্রীয় মহিলা দল নেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। সুবিধা জনক অবস্থায় রয়েছে নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি। সর্বোপরি জামালপুর জেলার ৫টি আসন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল কিন্তু জামালপুর-১ দেওয়ানগঞ্জ-বকসিগঞ্জ এবং জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ী আসনে জনপ্রিয় নতুন মুখ না আসলে বিএনপির দখলে যাবে প্রায় নিশ্চিত।