বিটিসিএল ও এরিকসনের আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে দুদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:৩১
৬০৭ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের মামলায় বিটিসিএলের বর্তমান ও সাবেক এমডিসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিরা যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য ইতিমধ্যে বিমানবন্দরে একটি তালিকা পাঠিয়েছে দুদক। এছাড়া ইতিমধ্যে বিটিসিএলের ও এরিকসনের আসামিদের অবস্থান এবং তত্পরতার উপর নজরদারি শুরু করেছে দুদক। এ ব্যাপারে দুদক কমিশনার (তদন্ত) সাহাবউদ্দিন চুপ্পু বলেন, আসামিদের ওপর দুদকের সতর্ক নজর রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে যা যা করা প্রয়োজন, দুদক তাই করবে।
৬০৭ কোটি ৫৭ লাখ এক হাজার ৬৩১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার করা মামলায় বিটিসিএলের বর্তমান এমডি এসওএস কলিমুল্লাহ, সাবেক এমডি মো. খবিরুজ্জামান, আফসারুল আলম ও ড. আবু সাঈদ খানসহ ২২ জনকে আসামি করে দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উচ্চ পর্যায়ের একটি চক্র ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তারা বিদেশ থেকে আসা টেলিফোন কলের ডাটা মুছে ফেলে এই টাকা আত্মসাত্ করেছে। ওই অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেডের সরবরাহকৃত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে বিটিসিএলের ইন্টারন্যাশনাল ট্রাঙ্ক এক্সচেঞ্জ (আইটিএক্স)-৫ ও আইটিএক্স-৭ সাব-এক্সচেঞ্জে। সফটওয়্যারটি সংরক্ষণ করছিল এরিকসন বাংলাদেশ। ফলে তাদের সহায়তা নিয়েই বিটিসিএলের একটি চক্র কল-ডাটা রেকর্ডিংয়ের (সিডিআর) ক্ষেত্রে এ ধরনের দুর্নীতি করেছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিটিসিএলের সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী (এডিই) রোনেল চাকমা, মো. বদিউল আলম, বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিই) মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, জিএম (ওটিআর) আনোয়ারুল মামুন, সদস্য (রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা) প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌফিক, বিভাগীয় প্রকৌশলী (আইটিএক্স) আনোয়ার হোসেন, সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী (আইটিএক্স) মনিরা বেগম, প্রাক্তন সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী (আইটিএক্স) সামসাদ মাহমুদ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ এইচ এম বখতিয়ারুল হুদা, সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (আইটিএক্স অ্যান্ড ট্রান্সমিশন) জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, মোহাম্মদ খোরশেদ হাসান, সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবদুস সালাম, ছাইফুর রহমান ভুঁইয়া, সাবেক সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ কায়সার, সাবেক এডিই/ডিই (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) (আইটিএক্স অ্যান্ড ট্রান্সমিশন) মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং সাবেক সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোক্তার আহমেদ। এছাড়া এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেডের ৩ কর্মকর্তাকেও দুদকের মামলার আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন কন্ট্রাক্ট ম্যানেজার আসিফ জাহিদ চৌধুরী, রিলেশন ম্যানেজার নজরুল ইসলাম, প্রকৌশলী মাসরুরুল হাকিম।
দুদকের উপ-পরিচালক এসএম সাহিদুর রহমান বাদী হয়ে দুটি, মাহমুদ হাসান বাদী হয়ে একটি এবং উপ-সহকারী পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সা’দাত বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।