গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি

প্রস্তাব জমা দিতে ১৫ দিন সময় নিল মালিকপক্ষ

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ডের গতকালের সভায় মালিক পক্ষের প্রস্তাব জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয় নি। শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুর কত হতে পারে তা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় গতকালের সভায় আরো ১৫ দিন সময় নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সদস্যদের নিয়ে পৃথক দুটি বিশেষ সাধারণ সভা করবে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ওই সভার মতামত নিয়ে মালিকদের পক্ষ থেকে মজুরির প্রস্তাব দেয়া হবে। ইতিমধ্যে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ন্যুনতম মজুরি ৮ হাজার ১১৪ টাকা করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৩ হাজার টাকা যা গত তিন বছর আগে নির্ধারণ করা হয়েছে। মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন বিজিএমইএ’র পরিচালক আরশাদ জামাল দিপু। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, সব কারখানা মালিকের সঙ্গতি এক রকম নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত করা যায় নি। তিনি বলেন, এলাকা বা মালিকভেদে শ্রমিকদের মজুরির বাইরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। শ্রমিকদের মজুরি প্রস্তাবে এটিকে মজুরির বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ চাচ্ছে এটি মজুরির মধ্যে অন্তর্ভূক্ত থাকার জন্য। এসব বিষয় সমন্বয় করা কঠিন হচ্ছে। শ্রমিকদের প্রস্তাবে ন্যুনতম মজুরি ৮ হাজার ১১৪ টাকার কথা বলা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ মজুরি প্রস্তাব করা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৮০ টাকা। এছাড়া বছরে দুটি উত্সব ভাতা এবং যাতায়াত, হাজিরা বোনাস ও খাদ্যভাতা প্রস্তাবিত মজুরির অতিরিক্ত হিসেবে দাবি করা হয়েছে। মজুরি বহির্ভূত সুবিধা ন্যুনতম মজুরিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়া না হওয়া নিয়েই মূলত এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়া এলাকায় বেশিরভাগ কারখানা মালিক শ্রমিকদের লাঞ্চ ভাতা দিয়ে থাকেন। আবার অনেক কারখানা মালিক যাতায়াত ভাতা দেন। এটি মজুরির অন্তর্ভূক্ত নয়। এটি দেশের সব এলাকার সব মালিক দেন না। আবার সব মালিকের আর্থিক সঙ্গতিও এক রকম নয়। এই অবস্থায় মালিকপক্ষ মজুরির বাইরে দেয়া সুবিধাসহ শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। আর এটি করা সম্ভব না হলে গত তিন বছরের মূল্যস্ফীতির হিসাবে বর্তমানের তুলনায় ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পক্ষেও মত আসে। সর্বশেষ ২০১০ সালের ২৭ জুলাই পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ২০০৬ সালে ১ হাজার ৬৬২ টাকা এবং ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ৯৪০ টাকা মজুরি নির্ধারণ করে। এদিকে মজুরি বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রতিযোগী দেশের ন্যুনতম মজুরি পরিস্থিতি (বিশেষত ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া) সরেজমিনে দেখতে এসব দেশ সফর করবেন বোর্ডের সদস্যরা।